অক্টোবর ৪, ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
খাবারের স্বাদে ভিন্নতা কিংবা সরবরাহের সময়সূচিতে সামান্য হেরফের হলে গবাদিপশুর আচরণ ও মেজাজে সরাসরি পরিবর্তন দেখা দেয়। খাবারে পরিচিত উপাদানের বদলে অন্য কোনো অচেনা গন্ধ পাওয়া গেলে বা খাবার পরিবর্তন করা হলে গরু সহজে তা মুখে নিতে চায় না। ঢাকা কেন্দ্রিক খামারে সরাসরি পর্যাপ্ত কাঁচা ঘাসের জোগান নিশ্চিত করা কঠিন হওয়ায় বিকল্প হিসেবে খড় ও সুষম দানাদার খাবারের ওপর নির্ভর করে সারা বছর প্রাকৃতিক নিয়মে গবাদিপশু লালন-পালন করা হচ্ছে। সকালের নির্দিষ্ট সময় ও বিকেলে আসরের নামাজের পর নিয়মিত দুই বেলা খাদ্য সরবরাহ করা হয়।
খামারে দেশি ও ফ্রিজিয়ানসহ বিভিন্ন জাতের গবাদিপশু রয়েছে। আকৃতিভেদে বড় সাইজের গরুর জন্য দানাদার খাদ্যের পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং মাঝারি ও ছোট আকারের ক্ষেত্রে শারীরিক চাহিদানুযায়ী তা বণ্টন করা হয়। খাদ্যগ্রহণের নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলে গরুগুলো শান্তভাবে বসে থাকার বদলে অস্থির হয়ে উঠে দাঁড়ায় এবং দ্রুত খাবার না পেলে আচরণে রুক্ষতা প্রকাশ করে। কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ ওষুধ বা গোপন রাসায়নিক উপাদানের ব্যবহার এড়িয়ে বছরব্যাপী স্বাভাবিক খাদ্য তালিকা বজায় রাখা হচ্ছে।
অনেক খামারে দ্রুত বৃদ্ধির আশায় ওষুধ কিংবা ক্ষতিকর উপাদান প্রয়োগ করা হলেও পূর্ণ এক বছর মেয়াদি প্রাকৃতিক প্রতিপালনে কেবল খড় ও দানাদার খাদ্যের ওপর জোর দেওয়া হয়। মিষ্টি স্বাদ যুক্ত করতে পানির সাথে প্রাকৃতিক নালিগুড় মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়। পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত খাবার দিলে মানুষের মতো পশুদেরও বদহজম দেখা দেওয়ার ঝুঁকি থাকে। সেই কারণে নির্দিষ্ট অনুপাতে শুকনো খড়ের সাথে দানাদার খাবার মিশিয়ে দেওয়া হয়। খাদ্যে অরুচি দেখা দিলে পশুর হজম ক্ষমতা বাড়াতে প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়।
গ্রামাঞ্চলে অনেক সময় লেবুর রস কিংবা হলুদ ও লবণের মিশ্রণ পশুর জিহ্বায় লাগিয়ে ঘরোয়া উপায়ে মুখের স্বাদ ফেরানোর চেষ্টা করা হয়। দানাদার খাদ্যের মূল মিশ্রণে চারটি প্রধান উপাদান নিয়মিত রাখা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সয়াবিনের খৈল, ছোলার ভুষি, ধানের কুঁড়া এবং গমের ভুষি। এই চারটি উপাদান স্তরে স্তরে সাজিয়ে পুষ্টিগুণ বজায় রাখা হয়।
পনেরো দিন পরপর প্রায় দুই থেকে তিন টন পরিমাণ দানাদার খাদ্য সংগ্রহ করে খামারে সংরক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি আঁশজাতীয় খাদ্যের চাহিদা মেটাতে প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ টন শুকনো খড় প্রয়োজন হয়। নগর এলাকার সীমাবদ্ধতায় তাজা ঘাসের নিয়মিত প্রাপ্যতা নিশ্চিত না হওয়ায় সুষম দানাদার খাদ্য এবং শুকনো খড়ের সঠিক মিশ্রণই গবাদিপশুর প্রধান খাদ্য উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন