সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬,

সিসি ক্যামেরার ফাঁকে বিমানবন্দরে লাগেজ কেটে চুরি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৪, ২০২৬, ১১:২৫ পিএম

সিসি ক্যামেরার ফাঁকে বিমানবন্দরে লাগেজ কেটে চুরি

দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আকাশপথের যাত্রীদের জন্য এক চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে লাগেজ কেটে মালামাল চুরি। বিদেশগামী প্রবাসী কর্মী, পবিত্র হজের যাত্রী, আন্তর্জাতিক অঙ্গনজয়ী নারী ফুটবলার কিংবা বিদেশি পর্যটক—কারোই শেষ পর্যন্ত এই অনাকাঙ্ক্ষিত লাগেজ কাটা ও চুরির হয়রানি থেকে রেহাই মিলছে না। বিমানবন্দরে মালামাল খোয়া যাওয়া এবং লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এই ধারাবাহিক ঘটনায় বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। অপরাধের অভিযোগের তির বারবার উঠেছে বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স কর্মীদের দিকে।

বিশেষ করে উড়োজাহাজ থেকে মালামাল ওঠানো ও নামানোর কাজে যুক্ত থাকা একশ্রেণির লোডারদের এই অনৈতিক কাজে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ অতীতেও মিলেছে। বিমান থেকে যাত্রীদের ব্যাগ নামিয়ে ব্যাগেজ বেল্ট পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে কাজ করেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃতীয় পক্ষ এজেন্সির গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মী ও লোডাররা। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ ও অতীতের বিভিন্ন অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, কার্গো হোল্ডের ভেতরের অন্ধকার অংশ বা সিসি ক্যামেরার নজরদারি এড়িয়ে কিছু অসাধু লোডার সূক্ষ্ম ব্লেড বা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে লাগেজের চেইন ও তালা কেটে ভেতরের মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়। 

অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযানে বৈদেশিক মুদ্রাসহ বিমানের একাধিক কর্মীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করার নজিরও রয়েছে। তবে বিমানবন্দরে লাগেজ কাটার প্রতিটি ঘটনাই যে দেশের অভ্যন্তরে ঘটে বা কেবল চুরির উদ্দেশ্যেই হয়, বিষয়টি পুরোপুরি এমন নয়। অনেক সময় আন্তর্জাতিক ট্রানজিট বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির অংশ হিসেবে ব্যাগের ভেতর কোনো সন্দেহজনক বস্তু থাকার আশঙ্কায় লাগেজ কেটে বা তালা ভেঙে পরীক্ষা করা হয় বলেও বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। 

তবুও দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোতে পর্যাপ্ত নজরদারি, স্বচ্ছতা ও কার্যকর প্রশাসনিক জবাবদিহিতার মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা। বিমানবন্দরে অসংখ্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা থাকলেও কিছু ব্লাইন্ড স্পট বা নজরদারিমুক্ত এলাকাকে কাজে লাগিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়মিত এই অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব ঘটনার পর বারবার তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও শেষ পর্যন্ত দায়সারা প্রতিবেদনের মধ্য দিয়ে মূল ঘটনা আড়ালে চলে যায় বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

এমন ব্যাপক অভিযোগের মধ্যেই সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শনে গিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত দাবি করেন যে বিমানবন্দরে বর্তমানে যাত্রীদের কোনো ধরনের ভোগান্তি নেই। তিনি মন্তব্য করেন, উড়োজাহাজ রানওয়েতে নামার মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই এখন যাত্রীদের হাতে লাগেজ বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রীর এমন দাবি বাস্তব চিত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাধারণ যাত্রীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সব মিলিয়ে বাস্তব দুর্ভোগ, প্রশাসনিক অনীহা এবং নজরদারির ফাঁকফোকরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের প্রবেশদ্বারকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই অনাস্থা পুরো বাংলাদেশের মর্যাদাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।