রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বরিশালে দফায় দফায় সংঘর্ষ, অর্ধশতাধিক বাস ভাঙচুর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১৫, ২০২৫, ১০:৩৬ পিএম

বরিশালে দফায় দফায় সংঘর্ষ, অর্ধশতাধিক বাস ভাঙচুর

শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিয়ে শুরু হওয়া একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় হামলা-পাল্টাহামলা ও সংঘর্ষে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। শনিবার রাত সোয়া ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক বাস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

রাত সোয়া ৯টা পর্যন্ত নথুল্লাবাদ এলাকায় চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।শ্রমিকদের হামলায় সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অন্তত ৩০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ছাত্রনেতা রাজু।

এর প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গোটা নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ডজুড়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে।

তারা একাধিক বাসের কাউন্টার এবং পার্কিং করা বিএমএফ, তুহিন, সামান্ত, জিএম এবং নিউ ভাই ভাই পরিবহনসহ অর্ধশতাধিক বাস ভাঙচুর ও বেশ কয়েকটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে। অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিক নেতা আরজু মৃধা দাবি করেছেন, শিক্ষার্থীদের হামলায় অন্তত ২০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহত শ্রমিক এবং শিক্ষার্থীদের দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ছাত্রনেতা রাজু জানান, শনিবার বিকেলে বিএম কলেজের এক শিক্ষার্থী আবু বক্কর ‘সোহান হাওলাদার’ নামক বাসে হাফ ভাড়া দিতে চাইলে বাসের সুপারভাইজার ও হেলপার তার সঙ্গে অশোভন আচরণ ও লাঞ্ছিত করেন। শিক্ষার্থী আবু বক্কর ঘটনাটি সহপাঠীদের জানালে প্রতিবাদ জানাতে সন্ধ্যা ৬টায় একদল শিক্ষার্থী নথুল্লাবাদে জড়ো হন। এ নিয়ে উত্তেজনার একপর্যায়ে ২৫-৩০ জন শ্রমিক একত্রিত হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তবে পরিবহন শ্রমিক নেতা আরজু মৃধা দাবি করেন, কলেজ বন্ধের দিন হাফ ভাড়া কার্যকর হবে না বলায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শতাধিক দলবদ্ধ হয়ে হামলা শুরু করে।

বর্তমানে গোটা বাসস্ট্যান্ড এলাকা বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হওয়া বাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছেন। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন উল ইসলাম জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।