রবিউল এহ্সান রিপন
জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
বিয়ের আগে যাকে দেখে পছন্দ করেছিলেন, বাসর রাতে দেখেন সেই কনে বদলে গেছে—এমনই এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়হান কবির। তবে কনে বদলের অভিযোগ ও পাল্টা যৌতুক দাবির মামলায় শেষ পর্যন্ত বর রায়হান কবিরকে জেলহাজতে যেতে হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার রায়হান কবিরের সাথে রাণীশংকৈল উপজেলার জেমিন আক্তারের বিয়ে হয় গত ১ আগস্ট।
বরের পরিবারের দাবি, বিয়ের আগে ঘটক মোতালেব চায়ের দোকানে যে মেয়েটি দেখিয়েছিলেন, বিয়ের পর বাসর রাতে দেখা যায় সেই মেয়েটি নেই, বরং অন্য কাউকে কনে সাজিয়ে পাঠানো হয়েছে। বরের মামা বাদল বলেন, “অতিরিক্ত মেকআপ থাকায় বিয়ের সময় বোঝা যায়নি, কিন্তু বাসর রাতে মুখ ধোয়ার পর প্রকৃত চেহারা ধরা পড়ে।
এই ঘটনায় ২ সেপ্টেম্বর মেয়ের বাবা ও ঘটকের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন বর রায়হান।অন্যদিকে, মেয়ের বাবা জিয়ারুল হক এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “বরের পক্ষ বাড়িতে এসেই মেয়েকে দেখেছে। ৭০ জন বরযাত্রীর সামনে বিয়ে হয়েছে। কনে বদলের গল্পটি মূলত ১০ লাখ টাকা যৌতুক না পাওয়ার অজুহাত।” গত ২৭ আগস্ট তিনি বর ও বরের দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন।
ঘটক মোতালেব জানান, তিনি কোনো দোকানে নয়, বরং মেয়ের বাড়িতেই পাত্রী দেখিয়েছিলেন। এরপর হুট করেই দুই পক্ষ বিয়ে সম্পন্ন করে।ছেলে পক্ষের আইনজীবী ও ঠাকুরগাঁও বার কাউন্সিলের সভাপতি জয়নাল আবেদিন জানান, প্রথম দিকে মীমাংসার শর্তে রায়হান কবিরকে জামিন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় সোমবার আদালত তাঁকে পুনরায় কারাগারে পাঠিয়েছেন। বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। এই বিচিত্র ঘটনা নিয়ে পুরো জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।