শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ওমরা শেষে ফেরার পথে চালকসহ একই পরিবারের ৫ বাংলাদেশি নিহত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৩:১২ পিএম

ওমরা শেষে ফেরার পথে চালকসহ একই পরিবারের ৫ বাংলাদেশি নিহত

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু

সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে ফেরার পথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৫ সদস্যসহ মোট ৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশ সময় রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে মদিনা শহর থেকে আভা ফেরার পথে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। 

পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা তাঁদের চিরতরে কেড়ে নিল। এই ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে, তাঁরা হলেন রামগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর ভাটরা ইউনিয়নের নলচারা গ্রামের অসীম উদ্দিন বেপারী বাড়ির শহীদুল্লাহর ছেলে প্রবাসী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মিজানের স্ত্রী ফারজানা ইয়াসমিন সুমি এবং তাঁদের তিন শিশু কন্যা মেহের আফরোজ, ফাইজা ইসলাম ও ছোট শিশু ফারজিন নূর সুবহা। 

সন্তানদের মধ্যে মেহের আফরোজের বয়স ১১ বছর এবং ছোট জন ফারজিনের বয়স মাত্র ২ বছর ছিল। এছাড়া দুর্ঘটনায় তাঁদের বহনকারী প্রাইভেটকারটির চালক বাবরও নিহত হয়েছেন। বাবর একই ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ির খোকনের ছেলে।নিহত মিজানুর রহমানের বাবা শহীদুল্লাহ ও বড় ভাই বাহারুল আলম সাংবাদিকদের কাছে এই হৃদয়বিদারক সংবাদ নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা জানান, মিজান দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে সপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন। পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে মদিনায় গিয়েছিলেন। 

ওমরাহ শেষে নিজস্ব গাড়িতে করে নিজ কর্মস্থল আভা শহরে ফেরার পথে মরুভূমির রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থলেই মিজান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রাণ হারান। সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রবাসীদের সহায়তায় লাশগুলো বর্তমানে স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।প্রবাসী এই পরিবারটির এমন করুণ মৃত্যুতে রামগঞ্জের ভাটরা ইউনিয়নে শোকের মাতম চলছে। 

গত কয়েক বছর ধরে প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে পরিবারটির সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছিলেন মিজানুর রহমান। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা পুরো পরিবারটিকে নিমিষেই নিশ্চিহ্ন করে দিল। স্বজনদের কান্নায় ওই এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। লাশগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং দূতাবাসের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে নিজ গ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।