সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শহীদ মুগ্ধর বাবার হার্ট অ্যাটাক, দেশবাসীর দোয়া চাইলেন স্নিগ্ধ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ২৯, ২০২৬, ১১:৩১ পিএম

শহীদ মুগ্ধর বাবার হার্ট অ্যাটাক, দেশবাসীর দোয়া চাইলেন স্নিগ্ধ

মুগ্ধর বাবার জন্য দোয়া

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীক শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মুস্তাফিজুর রহমান গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। রোববার রাত ৮টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মুগ্ধর যমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। 

তিনি জানান যে, তার বাবা একটি বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন এবং এনজিওগ্রামে তার হার্টে অসংখ্য ব্লক ধরা পড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আগামীকাল সোমবার তার একটি অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিকিৎসকরা। এই সংকটময় মুহূর্তে স্নিগ্ধ তার বাবার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে আন্তরিক দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

মীর স্নিগ্ধ তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, মুগ্ধকে হারানোর পর থেকেই তাদের বাবা মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলেন। বাইরে থেকে নিজেকে শক্ত দেখানোর চেষ্টা করলেও ভেতরে ভেতরে তিনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। 

স্নিগ্ধ তার বাবাকে পরিবারের সবচেয়ে সাহসী মানুষ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ইতিপূর্বে ছোটখাটো অসুস্থতায় তিনি কখনো দমে যেতেন না, এমনকি সন্তানদেরও জানাতেন না। কিন্তু এবারের এই বড় ধরনের অসুস্থতা পুরো পরিবারকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি জানান যে, সোমবারের এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হতে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় লাগতে পারে।নিজের রাজনৈতিক অনুপ্রেরণার কথা বলতে গিয়ে স্নিগ্ধ তার বাবার রাজনৈতিক জীবনের কিছু অজানা তথ্য তুলে ধরেন। 

তিনি জানান যে, মীর মুস্তাফিজুর রহমান নব্বইয়ের দশকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। যদিও তার তিন ছেলেই অরাজনৈতিক ছিলেন, তবুও বাবার কঠোর নির্দেশ ছিল রাজনীতি করলে যেন তার আদর্শের দল থেকেই করা হয়। স্নিগ্ধ প্রশ্ন তোলেন যে, যে দলটির ওপর তার বাবা এত অগাধ বিশ্বাস রেখেছেন, সেই দল কি একজন শহীদের পিতার বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে পারবে কি না। মানবিক মুগ্ধর চরিত্রে যে গুনাগুন মানুষ দেখেছে, তা পুরোপুরি তার বাবারই প্রতিচ্ছবি বলে তিনি দাবি করেন।

উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন উত্তরার আজমপুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে পানি ও বিস্কুট বিতরণের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন মুগ্ধ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ফ্রিল্যান্সার হিসেবে সফল মুগ্ধর মৃত্যুর আগে বলা পানি লাগবে কারও, পানি? কথাটি জুলাই বিপ্লবের এক অবিস্মরণীয় স্লোগানে পরিণত হয়। বর্তমানে তার বাবার এই আকস্মিক অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সমবেদনা ও দোয়া প্রকাশ করছেন। পুরো পরিবার এখন আগামীকালকের সফল অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় রয়েছে।