শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

সমুদ্রে তিন দিন ধরে ভাসমান মাছ ধরার বোট ও জেলেদের উদ্ধার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

আগস্ট ২৫, ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম

সমুদ্রে তিন দিন ধরে ভাসমান মাছ ধরার বোট ও জেলেদের উদ্ধার

ছবি : সংগৃহীত

দেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও বিশাল সমুদ্রসীমায় জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী সর্বদা তৎপর রয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা গভীর সমুদ্রে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিপদগ্রস্ত হওয়া নৌযান ও মৎস্যজীবীদের দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছে আইন প্রয়োগকারী এই বাহিনী। সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরের উত্তাল তরঙ্গে এমনি এক ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে তিন দিন ধরে ভাসমান অবস্থায় থাকা একটি মাছ ধরার বোটসহ বড় একটি দল নিরাপদে উদ্ধার হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে দীর্ঘ তিন দিন ধরে সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় থাকা একটি মাছ ধরার বোটসহ ষোলো জন জেলেকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।নৌবাহিনী সূত্রে জানা গেছে যে গত রবিবার রাতে নিয়মিত টহল পরিচালনা করার সময় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ বানৌজা কপোতাক্ষ বঙ্গোপসাগরে একটি মাছ ধরার বোট ইঞ্জিন বিকল হয়ে অচল অবস্থায় ভাসতে থাকার তথ্য পায়। 

প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে রাতেই জাহাজটি উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং পরদিন সকালে প্রচণ্ড ঢেউ ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে মোংলা ফেয়ারওয়ে বয়ের নিকটবর্তী এলাকা থেকে ‘এফবি আল আমিন’ নামের ওই বোটটির সন্ধান লাভ করে। তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোটটিতে অবস্থানরত ষোলো জন জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা, বিশুদ্ধ পানি ও সুপেয় খাদ্য সরবরাহ করা হয়।

উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানিয়েছেন যে গত ১৯ আগস্ট তারা বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকা থেকে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সাগরে পাড়ি জমিয়েছিলেন, কিন্তু সমুদ্রে পৌঁছানোর মাত্র দুই দিন পর তাদের বোটের ইঞ্জিন পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়ে। এরপর টানা তিন দিন তারা উত্তাল সাগরে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ভাসছিলেন। পরবর্তীতে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নৌবাহিনীর জাহাজটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বোটটিকে টেনে সুন্দরবনসংলগ্ন হিরণ পয়েন্ট এলাকায় নিয়ে আসে এবং সেখানে বোটসহ সকল জেলেকে নিরাপদে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের নিকট হস্তান্তর করা হয়।