রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নতুন করে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৬ জন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৫, ০৪:৩৯ পিএম

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নতুন করে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৬ জন

ছবি - সংগৃহীত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অ্যানথ্রাক্স (তড়কা রোগ) পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত দুই দিনে নতুন করে আরও ছয়জনের শরীরে এই রোগের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২২ জনে দাঁড়িয়েছে। একের পর এক মানুষ আক্রান্ত হওয়ায় এবং গবাদিপশুর মৃত্যু অব্যাহত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ২২ জন অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে রুজিনা বেগম নামে এক নারী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আক্রান্তদের বেশিরভাগই উপজেলার বেলকা ও কিসামত সদর গ্রামের বাসিন্দা।

আক্রান্তদের অভিযোগ, গত ২৭ সেপ্টেম্বর অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত একটি গরু জবাই করে তার মাংস যারা কাটা-বাছা ও সংস্পর্শে এসেছিলেন, মূলত তারাই এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। কিসামত সদর গ্রামের মোজাফফর আলী নামে এক আক্রান্ত ব্যক্তি বলেন, “গরুর মাংস কাটার দুদিন পর আমার হাতে ও চোখে ফোসকা দেখা দেয়।

হাসপাতালে গেলেও আমাকে ভর্তি না করে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে খেতে বলা হয়।” অনেক দরিদ্র রোগী অভিযোগ করেছেন, চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় দামী অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিবাকর বসাক জানান, আক্রান্তদের ১০ দিনের অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স দেওয়া হচ্ছে এবং একটি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

এদিকে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার দে জানিয়েছেন, আক্রান্ত এলাকায় গবাদিপশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে এবং সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং ও উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দলও গাইবান্ধার আক্রান্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করবে বলে জানা গেছে।