রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কুয়াশা আর শিশিরে হেমন্তেই শীতের হাতছানি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৩, ২০২৫, ০৯:৫২ এএম

কুয়াশা আর শিশিরে হেমন্তেই শীতের হাতছানি

ছবি - সংগৃহীত

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে ঋতুচক্রের পালাবদলে প্রকৃতি এখন সেজেছে হেমন্তের রূপে। ভোরের আকাশে ঘন কুয়াশার চাদর, দূর্বাঘাসের ডগায় মুক্তার মতো জমে থাকা শিশিরবিন্দু আর হালকা ঠান্ডা বাতাস—এই সবই জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। দেশের উত্তরের জেলাগুলোতে, বিশেষ করে পঞ্চগড় ও লালমনিরহাটের পাটগ্রামের মতো সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে, হেমন্তেই শীতের এই হাতছানি এখন স্পষ্ট।

পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, সকালের সূর্য ওঠার পরও দীর্ঘ সময় ধরে কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারপাশ। পাকা আমন ধানের সোনালি শীষের ওপর জমে থাকা শিশিরবিন্দু ভোরের আলোয় ঝলমল করছে। কৃষকের ঘরে নতুন ধানের গন্ধ, উঠানে ঝরে পড়া শিউলি ফুলের সুবাস আর পাখির কিচিরমিচির শব্দ মিলেমিশে এক স্নিগ্ধ পরিবেশ তৈরি করেছে।

স্থানীয়রা জানান, দিনে রোদ থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকেই তাপমাত্রা কমতে শুরু করে এবং মধ্যরাতের পর কাঁথা বা পাতলা কম্বল গায়ে জড়াতে হচ্ছে। উফারমাড়া গ্রামের শিক্ষক ইমদাদুল হক মোল্যা বলেন, “হেমন্ত এলেই আমরা বুঝি, নবান্ন আর নতুন ধানের পিঠার মৌসুম চলে এসেছে। এই সময়টা যেন গ্রামের প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ার ঋতু।”

ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শুধু প্রকৃতিই নয়, বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্রও। কৃষকের ঘরে উঠছে নতুন ধান, হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে খেজুরের রস থেকে তৈরি নতুন গুড়, আর ফসল তোলার কাজে গ্রামীণ শ্রমিকদের জন্য তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান। সব মিলিয়ে, উত্তরের জনপদে হেমন্ত এসেছে শীতের আমেজ আর নবান্নের অনাবিল আনন্দ নিয়ে।