রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

অশ্রুসিক্ত হাজারো মানুষ চিরবিদায় জানালেন জবি শিক্ষার্থী জুবায়েদকে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২১, ২০২৫, ১০:১৬ এএম

অশ্রুসিক্ত হাজারো মানুষ চিরবিদায় জানালেন জবি শিক্ষার্থী জুবায়েদকে

ছবি - সংগৃহীত

চোখের পানি, হৃদয়ের ভালোবাসা আর একরাশ দীর্ঘশ্বাস—এরই মাঝে হাজারো মানুষ শেষ বিদায় জানালেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) মেধাবী শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা মো. জুবায়েদ হোসেনকে। শিক্ষক, সহপাঠী, রাজনৈতিক সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন এবং অসংখ্য গুণগ্রাহীর উপস্থিতিতে তার জানাজা এক শোকসমুদ্রে পরিণত হয়।

সোমবার (২০ অক্টোবর) মাগরিবের নামাজের পর কুমিল্লার হোমনা উপজেলার কলাগাছিয়া এম এ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে, সকালে তার প্রিয় শিক্ষাঙ্গন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে তার শিক্ষক ও সহপাঠীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে রাত আটটার দিকে তাকে তার জন্মস্থান আসাদপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ছেলের লাশ সামনে রেখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জুবায়েদের বাবা মো. মোবারক হোসেন বলেন, “আমি চেয়েছিলাম আমার ছেলে লেখাপড়া করে বড় মানুষ হবে। আজ সে লাশ হয়ে আছে। আমি সবার কাছে আমার ছেলের জন্য দোয়া চাই, আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।”

জানাজায় অংশ নিতে ঢাকা থেকে ছুটে আসেন জুবায়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক আশরাফুল আলম তার প্রিয় ছাত্রকে স্মরণ করে বলেন, “সমাবর্তনে তার মাথায় ক্যাপ পরিয়ে দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আজ তাকে জানাজায় দেখছি। তার বাবা-মা তাকে পড়াশোনার জন্য পাঠিয়েছিলেন, আর সে লাশ হয়ে ফিরে এলো। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার চাই।”

জানাজায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক সচিব ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন খান, হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক মুকুল, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মো. সাইদুল হক, জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।

উল্লেখ্য, জবি পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুবায়েদ হোসেন গত রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার আরমানিটোলায় টিউশনি করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নৃশংসভাবে খুন হন।