রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রাজশাহীতে হঠাৎ বৃষ্টিতে ১০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৮, ২০২৫, ০৯:৫০ এএম

রাজশাহীতে হঠাৎ বৃষ্টিতে ১০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি

নভেম্বরের শুরুতে হঠাৎ টানা দুদিনের অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজশাহীর কৃষক সমাজ। এই বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে, নষ্ট হয়েছে শাকসবজি, ধান, পেঁয়াজসহ মৌসুমি ফসল। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটি ২৭ লাখ টাকা, আর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চার হাজারের বেশি কৃষক।

জেলার পবা, মোহনপুর, দুর্গাপুর, তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলাজুড়ে এই ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, নিম্নচাপের কারণে নভেম্বরের শুরুতেই অপ্রত্যাশিতভাবে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। মাত্র দুই দিনের বৃষ্টিতে জেলার প্রায় দুই হাজার ১৫০ বিঘা জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে:

  • শাকসবজিতে: ২৬৭ লাখ টাকা

  • সরিষায়: ১৮৫ লাখ টাকা

  • পেঁয়াজে: ১২৭ লাখ টাকা

  • রোপা আমনে: ১১৬ লাখ টাকা

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানিয়েছেন, অসময়ে হওয়া এই বৃষ্টিতে তাদের স্বপ্ন তলিয়ে গেছে। শিয়ালবেড় গ্রামের কৃষক রাব্বানী মণ্ডল বলেন, "বাজারে তোলার আগেই মুলা শেষ। পাঁচ বিঘা জমি পানিবন্দি। আষাঢ় মাসেও এমন বৃষ্টি হয় না।"

পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, তার ১২ কাঠা জমির শাকসবজি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের বি-৮৭ জাতের ধানও পানিতে তলিয়ে গেছে। তার ছেলে সোহানুর রহমান বলেন, "ধান কাটার আগেই মাঠ ডুবে গেছে। অর্ধেক ধান নষ্ট হবে, খরচও উঠবে না।"

দুর্গাপুর উপজেলার সিংগা গ্রামের কৃষক জাহিদ হোসেন জানান, তার দুই বিঘা জমির আধাপাকা ধান তলিয়ে গেছে, যা আর এক সপ্তাহ পরেই কাটার কথা ছিল।পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এম এ মান্নান জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রণোদনা বিতরণ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, "বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আমরা বিনামূল্যে সার ও বীজ দিচ্ছি। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি যেন পানি শুকিয়েই দ্রুত নতুন ফসল লাগাতে পারেন।"

বর্তমানে রাজশাহীর পবা, মোহনপুর, দুর্গাপুর, তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলাজুড়ে এখনো কিছু জমিতে পানি জমে থাকলেও, কৃষকরা আশাবাদী। তারা মনে করছেন, প্রকৃতি সহায় হলে এবং সরকারি সহযোগিতায় আবার ফসলের মাঠে প্রাণ ফিরে আসবে।