জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম
দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনে নির্বাচিত হলে এলাকায় একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠা করা হবে, যেখানে ৩০ থেকে ৪০ হাজার স্থানীয় তরুণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে বীরগঞ্জ উপজেলার দেউলি রথের বাজারে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ১০ দলীয় জোট ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব মো. মতিউর রহমান।
প্রতীক বরাদ্দের পর ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কার সমর্থনে এটিই ছিল ওই এলাকার প্রথম বড় কোনো নির্বাচনী শোডাউন, যা হাজারো জনতার উপস্থিতিতে কার্যত জনসমুদ্রে রূপ নেয়। উক্ত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অত্র ইউনিয়ন আমির কাজী মো. আব্দুর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি স্থানীয় উন্নয়নের স্বার্থে এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।প্রধান অতিথি মো. মতিউর রহমান তার বক্তব্যে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন।
তিনি ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, "নির্বাচিত হলে এলাকায় কোনো প্রকার চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজি চলতে দেওয়া হবে না। ব্যবসায়ীরা যাতে নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া এই অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত আম ও লিচু সংরক্ষণের জন্য এলাকায় আধুনিক হিমাগার স্থাপন করার ঘোষণা দেন তিনি।সামাজিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে তিনি বলেন, ৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের সরকারি খরচে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে এবং গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা চালু করা হবে।
তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অনলাইন জুয়ার গ্রাস থেকে বাঁচাতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, "সমাজকে মাদক ও জুয়ামুক্ত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পদ্ধতি ও দুটি ব্যালট পেপার সম্পর্কে ভোটারদের সচেতন করে মতিউর রহমান বলেন, এবারের নির্বাচনে দুটি ব্যালট থাকবে—একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং অন্যটি গণভোটের জন্য। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, "এমপি নির্বাচনে আপনারা ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট দেবেন এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মার্কায় সিল দেবেন। কারণ ‘হ্যাঁ’ ভোট হলো কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখা এবং দুর্নীতি বন্ধ করার পক্ষে রায়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, একটি পক্ষ ‘না’ ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে, যা স্বৈরাচারী ব্যবস্থা জিইয়ে রাখার ষড়যন্ত্র।ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, "জামায়াতে ইসলামী নির্বাচিত হলে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে এবং তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।" দেউলি রথের বাজারের এই জনসভায় ১০ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন এবং যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান। সন্ধ্যার আগে সমাবেশ শেষ হলেও এলাকার ভোটারদের মাঝে প্রার্থীর দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ ও আলোচনা লক্ষ্য করা গেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন