জাহিদ হাসান
মে ৭, ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের শতগ্রাম পাঠানপাড়া গ্রামের ৩ বছরের শিশু মো. আশরাফুল ইসলাম দুরারোগ্য এক রোগে আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বয়স যখন মাত্র এক বছর, তখন থেকেই তার শরীরে এই অজানা রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। বর্তমানে শিশুটির পরিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে।
আশরাফুলের বাবা মো. গোলাপ পেশায় একজন মৌসুমী খুচরা বিক্রেতা এবং পাশাপাশি দিনমজুরের কাজ করে কোনোভাবে সংসার পরিচালনা করেন। মা আয়েশা বেগম জানান, শিশুটির শরীরে প্রতি মাসে নিয়মিত রক্ত দিতে হয়।
রক্ত না দিলে তার হাত-পাসহ পুরো শরীর ফুলে যায় এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে এই পরিস্থিতি চললেও অর্থাভাবে সঠিক চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে না।পারিবারিক সূত্র জানায়, এর আগে ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে শিশুটির চিকিৎসা করানো হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক নিশ্চিতভাবে তার রোগ শনাক্ত করতে পারেননি। হাসি-খুশিতে বেড়ে ওঠার বয়সে আশরাফুল এখন অসুস্থতার কারণে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সে ঠিকমতো হাঁটাহাঁটিও করতে পারছে না।প্রতিবেশী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, শিশুটির পরিবার অত্যন্ত অসহায়।
দিনমজুরি করে যা আয় হয়, তা দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণই চলে না, সেখানে চিকিৎসার এই ব্যয়ভার বহন করা তাদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। শিশুটির প্রতিবেশী ফুপু আমজিনা বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে নানা চেষ্টা করেও উন্নত চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। অর্থের অভাবে পরিবারটি এখন পুরোপুরি দিশেহারা।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুটিকে পুরোপুরি সুস্থ করে তোলা সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দেওয়া পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় আশরাফুলের জীবন বাঁচাতে এবং তার সুচিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান মানুষের কাছে হাত বাড়িয়েছে পরিবারটি।
যোগাযোগ ও সহায়তা পাঠানোর জন্য আশরাফুলের বাবার ব্যক্তিগত ০১৭২০-৩৭১৫৯৩ (বিকাশ ও নগদ) নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মূলত দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলেই শিশু আশরাফুল আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।