জুন ৯, ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম
দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যানহীন অবস্থায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম। গত ১১ মে থেকে চেয়ারম্যান প্রফেসর মুহা. তৌহিদুল ইসলাম কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। সর্বশেষ ৩ জুন তার বদলি এবং ৪ জুন অনলাইনে রিলিজ গ্রহণের পর এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরের অভাবে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ২০২টি বিদ্যালয় ও ৭২০টি কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটি অনুমোদনের কাজ আটকে আছে। এছাড়া কর্মচারীদের পদোন্নতি, বেতন-বোনাস ও প্রাক-বাজেটসহ সব গুরুত্বপূর্ণ ফাইল স্তূপ হয়ে আছে।
শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. বোরহান উদ্দীন জানান, এসএসসি পরীক্ষার সময়ও চেয়ারম্যান বোর্ডের কাউকে কিছু না জানিয়ে ঢাকায় চলে যান, যা চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। সামনে এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ও ফয়েল পেপার সংক্রান্ত জরুরি কাজেও চেয়ারম্যানের অনুমোদন প্রয়োজন, যা এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বোর্ড সচিব প্রফেসর নূর মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজ চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। সেবাপ্রার্থীরা প্রতিদিন এসে ফিরে যাচ্ছেন। স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা না নিয়ে তিনি রংপুরে যাওয়ার কথা বলে বের হওয়ার পর থেকেই বোর্ডের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে হোয়াটসঅ্যাঅ্যাপে বৈঠক স্থগিতের নির্দেশ দিয়ে তিনি আর ফিরে আসেননি।
কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোওদুদ-উল-করীম বাবু জানান, বোর্ডের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা কাজ করছে। একদিকে পরীক্ষার চাপ, অন্যদিকে প্রশাসনিক স্থবিরতা—সব মিলিয়ে বোর্ডটি এখন চরম অনিশ্চয়তায়। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের এই সংকট নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ এখন সময়ের দাবি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন