রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

৩০০ কোটি ডলার ঋণ খুঁজছে সরকার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ১১:৫১ এএম

৩০০ কোটি ডলার ঋণ খুঁজছে সরকার

বড় ঋণের সন্ধানে সরকার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাড়তি দামে এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করতে আগামী চার মাসে বাংলাদেশের প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন। বিপুল এই অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে এবং অর্থনীতির ওপর তৈরি হওয়া চাপ সামাল দিতে সরকার এখন নতুন করে ৩০০ কোটি ডলার ঋণের উৎস খুঁজছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার সমান।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় এই ঋণ পাওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু করতে ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনীতি শাখা। 

চিঠির সাথে সংযুক্ত একটি অবস্থানপত্রে যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর তৈরি হওয়া নেতিবাচক প্রভাবগুলো তথ্য-উপাত্তসহ তুলে ধরা হয়েছে। সরকার মনে করছে, এই ঋণ পেলে মূলত তিনটি সুবিধা নিশ্চিত হবে। প্রথমত, এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে এবং জরুরি পণ্য আমদানি স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করবে। 

দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট জনগোষ্টীকে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়া সহজ হবে এবং তৃতীয়ত, দেশে জ্বালানি ও সারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব হবে।বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় বা ইআরডির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কারণ বর্তমানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন। 

তারা সেখানে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বসন্তকালীন সভায় যোগ দিতে গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইএমএফের কাছে বাড়তি ঋণ সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, জরুরি এই ঋণের জন্য তারা ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে। তবে নতুন করে ঋণ পেতে সংস্কারের শর্ত নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হতে পারে। 

এর আগে নেওয়া বিভিন্ন বাজেট সহায়তার বিপরীতে উন্নয়ন সহযোগীরা নানা সংস্কারের শর্ত দিয়েছিল, যার সব কটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বিশেষ করে আইএমএফ সাধারণত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সবার জন্য ঢালাও ভর্তুকি দেওয়ার বিপক্ষে অবস্থান নেয়। তবে সরকার তাদের অবস্থানপত্রে উল্লেখ করেছে যে, এই ভর্তুকি হবে স্বল্পমেয়াদি এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমুখী।

বাংলাদেশের সামগ্রিক বৈদেশিক ঋণের পরিমাণও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৩ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকার ওপরে। এই ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা এবং বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে অর্থনীতিবিদরা তাদের পর্যবেক্ষন তুলে ধরছেন।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মনে করেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে অনেক দেশই উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা চাইছে, তাই বাংলাদেশের এই উদ্যোগটি অযৌক্তিক নয়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে, ঋণ দেওয়ার আগে দাতা সংস্থাগুলো সরকারের নেওয়া নীতি পদক্ষেপগুলো খতিয়ে দেখবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পরেও কেন দেশে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়নি, সেই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারে সরকার। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মেটাতে নতুন এই ঋণের সংস্থান করা সরকারের জন্য এক বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

তথ্যসূত্র : প্রথম আলো