মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,

ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ১১:৫৮ এএম

ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা

বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ও অনলাইন বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নিয়ে রাজধানী ঢাকায় নিজস্ব কার্যালয় স্থাপনে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান Meta। একই সঙ্গে দেশের ইলেকট্রনিক বাণিজ্য ও অনলাইন ব্যবসা সম্প্রসারণে কারিগরি সহযোগিতা এবং সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেছে মার্কিন এই শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। নিউ ইয়র্কে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণসহ নিউ ইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের সার্বিক কর্মসূচি ও কূটনৈতিক অগ্রগতি তুলে ধরতে এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, সফরকালে মেটার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও সময়সূচির অনিবার্য পরিবর্তনের কারণে তিনি এতে অংশ নিতে পারেননি। তবে সরকারের পক্ষে অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

ঢাকায় মেটার আনুষ্ঠানিক কার্যালয় স্থাপনের অগ্রগতি তুলে ধরে শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ অফিস খোলার ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও আগ্রহী। আঞ্চলিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকাকে তাদের ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিশদ আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশে মেটার সামাজিক মাধ্যমের সুবিশাল ব্যবহারকারীভিত্তি এই আগ্রহের অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পরিসংখ্যানের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট নাগাদ বাংলাদেশে ফেসবুকের আনুমানিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত কোটি ৫১ লাখের বেশি। 

তবে এই সংখ্যাগুলো মূলত প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব বিজ্ঞাপন-ভিত্তিক পরিসংখ্যান থেকে সংগৃহীত এবং একে সরাসরি নিয়মিত সক্রিয় ব্যবহারকারীর চূড়ান্ত সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা না করার সতর্কতাও রয়েছে। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন এবং সামগ্রিক ডিজিটাল খাতের জাতীয় নীতিমালার বিভিন্ন দিক গুরুত্বের সাথে উঠে আসে। এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ ই-কমার্স খাত, উদ্যোক্তাদের বাণিজ্যিক প্রসার এবং সামগ্রিক ডিজিটাল অর্থনীতির ধারাবাহিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মেটা কীভাবে অংশীদার হতে পারে, তা নিয়ে কথা হয়।

বাণিজ্যিক সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে স্থানীয় মুদ্রা ও চ্যানেলে অর্থ পরিশোধের সুযোগ চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা বিকাশের মতো স্থানীয় মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সহজে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের খরচ পরিশোধ করতে পারছেন। এই উদ্যোগটি বিশেষ করে দেশের তৃণমূল ও মাঝারি পর্যায়ের ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের জন্য সরাসরি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পণ্য প্রচারের পথ উন্মুক্ত করেছে।

তা ছাড়া মেটা এবং লাইটক্যাসল পার্টনার্স সম্প্রতি ঢাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ে একটি যৌথ কর্মসূচি সম্পন্ন করেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে কার্যকর ডিজিটাল বিপণন কৌশল এবং এআইভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবসায়িক আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়ে মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়াই ছিল ওই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। বর্তমানে মেটার ‍‍`স্মল বিজনেস গ্রোথ একাডেমি‍‍` উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশে এক হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে কারিগরি ও ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধির নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দেশের বিপুলসংখ্যক প্রযুক্তিপ্রেমী তরুণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর শক্তি এবং দ্রুত বিস্তার লাভ করা অনলাইন ব্যবসার বৃহৎ বাজারকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের এক নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হতে পারে। বিশেষ করে আধুনিক ডিজিটাল বাণিজ্য, উদ্ভাবনী তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি, অনলাইন সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই যৌথ উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।