এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১০:০৮ এএম
দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সবশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার মূল্যবান এই ধাতু দুটি রেকর্ড উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। গেল ১৫ এপ্রিল বাজুস স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, যা বর্তমানে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর রয়েছে।
এর ফলে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম আড়াই লাখ টাকার মাইলফলক স্পর্শ করল।বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন নির্ধারিত মূল্যে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকায়। সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭ ৩৭ টাকা।
বর্তমান এই দাম বাড়ার আগে গত ৯ এপ্রিল স্বর্ণের দামে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। ওই সময় ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে স্থানীয় বাজারের চাহিদা ও তেজাবি স্বর্ণের উচ্চমূল্যের কারণে ফের বাড়তে শুরু করে মূল্যবান এই ধাতুর দর। চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম মোট ৫৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ বার দাম বেড়েছে এবং ২৩ বার কমানো হয়েছে।
স্বর্ণের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রুপার দামও। সবশেষ সমন্বয়ে রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা ৬ হাজার ৬৫ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছরে রুপার দামও ৩৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ বারই ছিল ঊর্ধ্বমুখী।
বাজুস সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচামালের সংকট মোকাবিলায় প্রায়ই এই ধরণের মূল্য পরিবর্তন করতে হয়। গেল ২০২৫ সালেও স্বর্ণের দাম ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল, যার বড় অংশই ছিল দাম বাড়ার খবর। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা এখন এক বিশাল আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন