রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পাইপলাইনে আসছে আরও ৭ হাজার টন ডিজেল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১২:০৪ এএম

পাইপলাইনে আসছে আরও ৭ হাজার টন ডিজেল

ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে চলতি মাসে তৃতীয় চালানে আরও সাত হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে আসছে। সব ঠিক থাকলে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত রেলহেড অয়েল ডিপোর ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের রিসিপ্ট টার্মিনালে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মধ্যে এই জ্বালানি তেল এসে পৌঁছাবে। 

উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সেচ কাজ এবং দৈনন্দিন জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এই প্রকল্প বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) কাজী রবিউল আলম এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, গত সোমবার রাত আটটার দিকে ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশে ডিজেল পাঠানোর পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ ঘণ্টা পাম্পিং প্রক্রিয়ার পর এসব ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে জমা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদরা তদারকি করছেন যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সরবরাহ সম্পন্ন হয়।

এর আগে গত ১৯ এপ্রিল ৫ হাজার টন এবং ১১ এপ্রিল ৮ হাজার টন ডিজেল এই পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে এসেছে। চলতি এপ্রিল মাসেই এখন পর্যন্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট ১৩ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়েছে। মেঘনা পেট্রোলিয়াম সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসে চারটি চালানের মাধ্যমে ভারত থেকে মোট ২৫ হাজার টন ডিজেল আসার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রেকর্ড অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত চারটি চালানে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট ২২ হাজার টন ডিজেল এসেছিল। সব মিলিয়ে এ বছর এখন পর্যন্ত আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার টনে। এই ডিজেল পার্বতীপুর থেকে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা—এই তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিতে নির্দিষ্ট হারে সরবরাহ করা হয়। মূলত উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন স্থাপনের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি সই হয়। দীর্ঘ প্রস্তুতি শেষে ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়। দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী ভারত আগামী ১৫ বছর বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করবে। এই সময়ে প্রতি বছর প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে খুলনা ও চট্টগ্রাম থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে তেল আসতে সময় লাগত ৬ থেকে ৭ দিন। পাইপলাইনের মাধ্যমে তা অনেক দ্রুত ও সাশ্রয়ীভাবে নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে। আমদানিকৃত এই জ্বালানি তেল উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও শিল্পখাতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী ভবিষ্যতে আমদানির এই পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।