রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে আরও বাড়বে মূল্যস্ফীতি: বাংলাদেশ ব্যাংক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ১০:৫০ এএম

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে আরও বাড়বে মূল্যস্ফীতি: বাংলাদেশ ব্যাংক

মূল্যস্ফীতি নিয়ে সতর্কবার্তা।

দেশে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিকট ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে নিত্যপণ্যের দাম নতুন করে বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ‘বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতি (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬)’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী দিনগুলোতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হতে পারে। 

এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে বৈশ্বিক বাজারে তেলের উচ্চমূল্য, দেশের বাজারে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় এবং বিদ্যমান জ্বালানি সরবরাহ সংকটকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকার সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিশ্লেষণটি এলো ওই সিদ্ধান্তের মাত্র নয় দিনের মাথায়।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়লে সরাসরি পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। এর ফলে উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পায় এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে এর প্রভাব পড়ে। শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেয় যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তোলে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে গড়ে ৮ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর আগের প্রান্তিকে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৩ শতাংশ।বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে জানান, জ্বালানির মূল্য বাড়ার ফলে স্বল্পমেয়াদে অর্থনীতিতে এক ধরনের ধাক্কা দেখা দিতে পারে। যেহেতু জ্বালানি প্রায় সব খাতেই ব্যবহৃত হয়, তাই এর দাম বাড়লে অর্থনীতির সর্বত্র এর প্রভাব পড়ে এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে তা উসকে দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পর ইতোমধ্যে পরিবহন ব্যয় বাড়তে শুরু করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে জ্বালানি খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১৪ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে সবজি ও মসলার দাম বাড়ার কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বিশেষ করে মাছ, মাংস ও ডিমের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ পণ্যগুলো মূল্যস্ফীতিতে প্রধান ভূমিকা রাখছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মৌসুমি চাহিদার কারণে খাদ্যপণ্য এবং পোশাক-জুতার দামও কিছুটা বেড়েছে। আমদানিনির্ভর খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি দেশি খাদ্যের মূল্যস্ফীতিতে অবদান আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, মজুরি বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে। গত মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৭ শতাংশ থাকলেও মজুরি বৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ১ শতাংশ। এর ফলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, এ পরিস্থিতিতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে সতর্ক নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের মূল্যচাপ কমিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এসব পদক্ষেপ সহায়ক হবে বলে প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।