সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
ডলার বা অন্য কোনো বৈদেশিক মুদ্রার সরাসরি ব্যবহার ছাড়াই নিজস্ব মুদ্রা টাকায় আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যের বিল পরিশোধের বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বিদেশি ব্যাংকের নামে পরিচালিত নন-রেসিডেন্ট টাকা বা ভোস্ট্রো হিসাবের মাধ্যমে বৈদেশিক বাণিজ্যের লেনদেন সম্পূর্ণ টাকায় নিষ্পত্তি করা যাবে। বৈদেশিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যুগান্তকারী এই নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করা হয়। নতুন এই ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আমদানিকারকের কাছ থেকে প্রাপ্ত টাকা সরাসরি সংশ্লিষ্ট ভোস্ট্রো হিসাবে জমা হবে। পরবর্তীতে ওই হিসাব থেকে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকের অনুকূলে পাওনা অর্থ পরিশোধ করা যাবে। তবে ঋণপত্র (এলসি), বাণিজ্যিক চুক্তি ও ইনভয়েস আগের মতোই অনুমোদিত আন্তর্জাতিক বৈদেশিক মুদ্রায় সম্পন্ন করতে হবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রচলিত বিনিময় হার (এক্সচেঞ্জ রেট) অনুযায়ী ওই বৈদেশিক মুদ্রার সমপরিমাণ অর্থ টাকায় রূপান্তর করে লেনদেনের আর্থিক নিষ্পত্তি করা যাবে।
টাকায় রপ্তানি আয় গ্রহণকারী রপ্তানিকারকদের জন্য বিশেষ সংরক্ষণের সুবিধা রাখা হয়েছে। যেসব রপ্তানিকারক এই প্রক্রিয়ায় টাকায় আয় গ্রহণ করবেন, তারা চাইলে বৈদেশিক মুদ্রা নিজস্ব হিসাবে সংরক্ষণ করতে পারবেন। সংরক্ষিত এসব বৈদেশিক অর্থ কাঁচামাল আমদানি, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) ঋণ পরিশোধ এবং অন্যান্য অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রার দায় মেটাতে ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন তারা। ভোস্ট্রো হিসাবে জমা থাকা অতিরিক্ত অর্থ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা যাবে। বিদেশি ব্যাংকগুলোর ভোস্ট্রো হিসাবে যদি অতিরিক্ত অর্থ জমা থাকে, তবে তা সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), বৈদেশিক পোর্টফোলিও বিনিয়োগ, বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল এবং ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডে খাটানো যাবে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে বাংলাদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই উদ্বৃত্ত অর্থ ব্যবহার করার সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
এদিকে একই দিনে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় সংক্রান্ত পৃথক আরেকটি নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনায় এক্সচেঞ্জ হাউস এবং আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরকারী সংস্থাগুলোর (আইএমটিও) মাধ্যমে দেশে আসা বৈদেশিক মুদ্রার রেমিট্যান্স প্রাইভেট ফরেন কারেন্সি (পিএফসি) ও নন-রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (এনএফসিডি) হিসাবে জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এই ধরনের প্রতিটি লেনদেনে গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি), অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (এএমএল/সিএফটি) নীতিমালার কঠোর শর্ত এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা ও রিপোর্টিংয়ের যাবতীয় শর্তাবলি বাধ্যতামূলকভাবে মেনে চলতে হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন