মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ

বামার টিও লাইসেন্স বাতিলের আদেশ স্থগিত করলেন হাইকোর্ট

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ১০:৩৭ এএম

বামার টিও লাইসেন্স বাতিলের আদেশ স্থগিত করলেন হাইকোর্ট

বালাইনাশক প্রস্তুতকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বামার ট্রেড অর্গানাইজেশন লাইসেন্স বাতিল এবং আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্রপ প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে একীভূত করার সরকারি সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত উল্লেখ করে করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে বামার লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করা হয়েছে।

হাইকোর্টের আদেশের ফলে বামা আগের মতোই বৈধ বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৯ সেপ্টেম্বর এক স্মারকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বামার লাইসেন্স বাতিল করে তাদের বিসিপিএর সঙ্গে একীভূত হওয়ার নির্দেশ দেয়। দেশীয় উৎপাদকদের দাবি, এই পদক্ষেপটি ছিল একপেশে এবং বেআইনি। এর প্রেক্ষিতে সংগঠনের সভাপতি কৃষিবিদ কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এম এ মান্নানের স্বাক্ষরিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে উচ্চ আদালতে আইনি প্রতিকার চাওয়া হয়। বামার আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. সালেকুজ্জামান আদালতের আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুক্তি ছিল সদস্য সংখ্যার বিশাল ফারাক। তাদের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বালাইনাশক খাতে বিসিপিএর সদস্য সংখ্যা এক হাজার ২৩০ জন হলেও বামার সদস্য মাত্র ২০ জন। দুটি সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য কাছাকাছি হওয়ায় একাধিক সংগঠনের উপস্থিতির কারণে আমদানি, উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। সামগ্রিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবসায়ীদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসাকে সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করেছিল।

তবে দেশীয় উৎপাদকদের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীত। বামার অভিযোগ, প্রভাবশালী আমদানিকারক মহলের স্বার্থসিদ্ধি ও চাপের মুখে মাত্র চার বছরের মাথায় তাদের লাইসেন্স কেড়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সভাপতি কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমদানিকারকদের সাথে স্থানীয় উৎপাদকদের বাণিজ্যিক স্বার্থের সংঘাত রয়েছে। বিসিপিএ মূলত আমদানিনির্ভর ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই আইনগত দিক পর্যালোচনা না করে নেওয়া এই সংযুক্তির কারণে স্থানীয় উৎপাদন খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ত। এদিকে প্রজ্ঞাপন জারির সময়ে সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন বিসিপিএ সভাপতি সাইফুজ্জামান। তার ভাষ্য ছিল, দুটি সংগঠনের লক্ষ্য একই এবং বামার সদস্যরাও কার্যত তাদের সংগঠনের অংশ হওয়ায় এই উদ্যোগ বাজারে সার্বিক শৃঙ্খলা ফেরাতে ভূমিকা রাখবে।

একসময় দেশের কৃষি রাসায়নিক বাজার পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তারা কারখানা স্থাপন করে স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে এগিয়ে এলে ২০২২ সালের আগস্টে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বামাকে স্বতন্ত্র ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করে। উচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক আদেশের ফলে মন্ত্রণালয়ের একীভূতকরণ সিদ্ধান্ত অকার্যকর হয়ে পড়ায় দেশীয় উৎপাদকরা তাদের স্বাধীন প্রাতিষ্ঠানিক অস্তিত্ব রক্ষা করতে সক্ষম হলেন।