মে ৮, ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
দেশে বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভের পরিমাণ ৩৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার।
তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দেশের রিজার্ভ এখন ৩১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় স্থিতিশীল থাকা এবং আমদানি ব্যয়ে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আসার কারণে রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এর ফলে বৈদেশিক লেনদেনের ওপর চাপ কমছে।
বর্তমানে রিজার্ভ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে প্রবাসী আয়। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহও বেড়েছে। একইসঙ্গে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক ঋণ সহায়তার অর্থ ছাড় পাওয়ার কারণে রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসপণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায় ডলারের ওপর চাপ আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। ফলে বাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অতিরিক্ত ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে না।
রিজার্ভের পরিমাণ এখন ৩৫.৬১ বিলিয়ন ডলার।২০২১ সালে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও উচ্চ আমদানি ব্যয়ের কারণে পরবর্তী সময়ে রিজার্ভ দ্রুত কমতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়ানোর নানা উদ্যোগ নেয়।
বর্তমানে যে পরিমাণ রিজার্ভ রয়েছে, তা দিয়ে কয়েক মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিপিএম-৬ হিসাবের রিজার্ভকে প্রকৃত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা এখন ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতির ফলে ডলারের বাজারে অস্থিরতা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন