মে ১২, ২০২৬, ১১:১৩ এএম
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট ও তেলের দামের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন তাদের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে ৫৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।মার্কিন সরকারি এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে মূলত যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিপর্যস্ত বৈশ্বিক তেলের বাজার স্থিতিশীল করতে এবং সরবরাহ ঘাটতি কমাতে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি একটি বৈশ্বিক সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ করতেই এই বিপুল পরিমাণ তেল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত মাসে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ (ডিওই) ৯টি জ্বালানি কোম্পানিকে মোট ৯২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ‘ঋণ’ হিসেবে বরাদ্দ দিয়েছিল। তবে কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক্সনমোবিল, ট্রাফিগুরা ও ম্যারাথন পেট্রোলিয়ামসহ কয়েকটি কোম্পানি সেই বরাদ্দের মাত্র ৫৮ শতাংশ ব্যবহার করতে পেরেছে।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে ৫৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি অংশ। এই পরিকল্পনার আওতায় মোট ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ধাপে ধাপে বাজারে ছাড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, এই সরবরাহের ফলে বাজারে তেলের জোগান বাড়বে এবং দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসবে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কৌশলগত রিজার্ভ থেকে এ ধরনের বড় সরবরাহ তেলের বাজারে স্বল্পমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়তা করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ববাজারে এর প্রভাব কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন