জুন ৫, ২০২৬, ১১:০৬ এএম
জ্বালানি ও বিদ্যুতের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি এবং ব্যাংক খাতের দুর্বলতার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সতর্ক করে বলেছে, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী স্বস্তি সম্ভব নয়।অর্থনীতির সূচকগুলোতে এখনো গভীর সংকট বিদ্যমান।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, চলতি অর্থবছরের শেষ দিকে এসে আর্থিক ও উৎপাদনশীল খাতগুলো বড় ধরনের চাপের মধ্যে পড়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে। মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ হলেও তা মূল্যস্ফীতির তুলনায় অনেক কম, যা সীমিত আয়ের মানুষের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন ব্যয় ও পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।গত মে মাসের মধ্যে ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ এবং পেট্রল ও অকটেনসহ অন্যান্য জ্বালানির দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম তিন মাসের ব্যবধানে ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মূল্যস্ফীতিকে আরো উসকে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ।খেলোয়াড় ঋণের হার কাগজে-কলমে কমলেও প্রকৃত পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ছয়টি ব্যাংকের প্রাথমিক পর্যালোচনায় বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত খেলাপি ঋণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব ঘাটতি এক লাখ চার হাজার ৫৩৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে বড় বাধা।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আমদানিনির্ভর জ্বালানি খাতের ঝুঁকি আরো বাড়িয়েছে।রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে নতুন শুল্ক আরোপের ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক-বাণিজ্যিক স্বার্থ অর্থনীতির নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে অর্থনীতির এই দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব হয়ে পড়বে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন