জুন ১১, ২০২৬, ০২:১১ পিএম
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাদক শুল্ক থেকে সর্বমোট ১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বাইরে কর রাজস্ব আহরণের অন্যতম উৎস হিসেবে এই খাত থেকে আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি আয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার নতুন বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বাজেট হতে যাচ্ছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।নতুন এই বাজেটের মূল দর্শন হিসেবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বেসরকারি বিনিয়োগ, উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণকে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে আগামী অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের সামগ্রিক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে মাদক শুল্ক খাত থেকেই চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরও ৩৩৪ কোটি টাকা বাড়তি আয়ের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। দুই বছরের ব্যবধানে এই খাত থেকে সরকারের আয় বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বলে পরিসংখ্যানে দেখা গেছে।
মাদক শুল্কের পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরে এনবিআর বহির্ভূত কর রাজস্ব খাত থেকে মোট ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য স্থির করতে পারেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১২ হাজার ৪২০ কোটি টাকা আদায় করার পরিকল্পনা রয়েছে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প বিক্রি খাত থেকে। এছাড়া কর রাজস্ব আহরণের মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে আয়, মুনাফা ও মূলধনের ওপর কর থেকে সবচেয়ে বড় অংশ অর্থাৎ ২ লাখ ১৯ thousand ৮৩৫ কোটি টাকা আসবে। উচ্চাভিলাষী এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে করজাল সম্প্রসারণ এবং কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে আগামী অর্থবছরে কর বহির্ভূত আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও বাড়িয়ে ৬৬ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। মূলত ঋণনির্ভর প্রবৃদ্ধি থেকে সরে এসে উৎপাদন ও বেসরকারি বিনিয়োগকেন্দ্রিক একটি টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন