রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কর্মবিরতিতে দ্বিতীয় দিনেও বন্ধ বার্ষিক পরীক্ষা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২, ২০২৫, ০৩:২৮ পিএম

কর্মবিরতিতে দ্বিতীয় দিনেও বন্ধ বার্ষিক পরীক্ষা

সরকারের নির্দেশনা সত্ত্বেও শিক্ষকদের লাগাতার কর্মবিরতির কারণে আজ মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) দ্বিতীয় দিনেও সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা হয়নি। তবে সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতি স্থগিতের একটি ঘোষণা আজ বিকাল নাগাদ আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি ও কেন্দ্রীয় সমন্বয় পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক রেবেকা সুলতানা জানান, দ্বিতীয় দিনও সরকারি মাধ্যমিক কোনো স্কুলেই বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না।

দাবি ও আলোচনা: তিনি বলেন, বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সেন্টিমেন্ট আমাদেরকে বিব্রত করছে। বিকাল নাগাদ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে।

তাদের দাবির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করলে তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিবেন।চাপ প্রয়োগ: তিনি অভিযোগ করেন, গত দুই দিনে অন্তত তিনটি চিঠি ইস্যু করে এবং জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এন্ট্রিপদ ৯ম গ্রেডভিত্তিক পদসোপানের আলোকে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক ওমর ফারুক বলেন, তারা ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ে কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে অনঢ় থাকবেন।

তিনি সাময়িক অসুবিধার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিকট দুঃখ প্রকাশ করে যত দ্রুত মন্ত্রণালয় সাড়া দিবে, তত দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার প্রতিশ্রুতি দেন।প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের আহ্বায়ক আবুল কাসেম মোহাম্মদ শামছুদ্দীন জানিয়েছেন, পরীক্ষা বর্জনসহ পূর্ণদিবস কর্মবিরতি অব্যাহত থাকায় স্কুলগুলোতে পরীক্ষা হচ্ছে না।তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী ১১তম গ্রেডসহ তিন দফা দাবির বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তাদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:

১. সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা। ২. ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা দূর। ৩. সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা।এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এক অফিস আদেশে জানিয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক, নির্বাচনী ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। আদেশে উল্লেখ করা হয়—পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক বা কর্মকর্তার শৈথিল্য বা অনিয়ম ধরা পড়লে বিধিসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।