ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১১:২১ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স পর্যায়ের চূড়ান্ত পরীক্ষায় জুলাই বিপ্লবের শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি ও বিতর্কিত ‘আয়নাঘর’ নিয়ে প্রশ্ন আসায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার অনুষ্ঠিত মাস্টার্স দ্বিতীয় সেমিস্টারের ‘পলিটিক্স অ্যান্ড ল: গ্লোবাল অ্যান্ড ন্যাশনাল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যান্ড ইস্যুজ’ শীর্ষক কোর্সের পরীক্ষায় এই ব্যতিক্রমী প্রশ্ন করা হয়। শহীদ ওসমান হাদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগেরই ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন।
পরীক্ষার একটি প্রশ্নে তাঁর আলোচিত উক্তি ‘জান দেবো, তবু জুলাই দেবো না’ এবং ‘আমি আমার শত্রুর সাথেও ইনসাফ করতে চাই’—এই দুটি বাক্যের ভিত্তিতে মানবাধিকার রক্ষায় তাঁর সংগ্রামের স্বরূপ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়।
একই কোর্সের প্রশ্নপত্রে ‘আয়নাঘর’ নিয়েও একটি প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। এতে একটি পদ্ধতিগত হাতিয়ার বা ‘সিস্টেমেটিক টুল’ হিসেবে আয়নাঘর কীভাবে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করেছিল, তা শিক্ষার্থীদের কাছে ব্যাখ্যা করতে চাওয়া হয়। সমসাময়িক রাজনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতির এই প্রেক্ষাপট পরীক্ষার পাতায় উঠে আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট কোর্সটি পড়ান রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম। তিনি মনে করেন, অ্যাকাডেমিক চর্চায় বর্তমানের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহকে উপেক্ষা করার যে সংস্কৃতি আমাদের দেশে রয়েছে, তা ভাঙা প্রয়োজন।অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, জুলাই বিপ্লব, আয়নাঘর এবং শহীদ ওসমান হাদির আপসহীন লড়াই নিয়ে বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গবেষণা শুরু হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার স্তরে এসব বিষয় এখনো অবহেলিত। তিনি তাঁর ছাত্রদের এই বিষয়গুলোকে অ্যাকাডেমিক ডিসকোর্সের আওতায় এনে উচ্চতর গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করতে চান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই জুলাই বিপ্লবের সামনের সারির যোদ্ধা। অনেকের সহপাঠী শহীদ হয়েছেন বা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাই নিজেদের বীরত্বগাথা ও ইতিহাস নিয়ে অ্যাকাডেমিক চর্চা করার অধিকার তাঁদের রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষায় জুলাই বিপ্লব সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন আসার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত বছরও একই কোর্সের পরীক্ষায় বিপ্লব সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল যা সেই সময়েও শিক্ষাবিদ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগকে সমসাময়িক ইতিহাসের নির্মোহ পর্যালোচনার একটি ধাপ হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক। তাঁরা মনে করেন, এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন