এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ১০:১২ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকারের চূড়ান্ত করা তালিকা থেকে ১ হাজার ৭১৯টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আপাতত এমপিওভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পূর্বের তালিকাটি পুনরায় কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনা হবে এবং একই সঙ্গে নতুন করে আবেদন গ্রহণ করা হবে। এরপর পুরনো ও নতুন সব আবেদন একত্রে মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, এর আগের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অসঙ্গতি ছিল। ৩ হাজার ৬১৫টি আবেদন যাচাই করতে মাত্র আট কর্মদিবস সময় নেওয়া হয়েছিল।
কর্মকর্তাদের মতে, দিনে গড়ে ৪৫২টি প্রতিষ্ঠান মূল্যায়ন করা কার্যত অসম্ভব। এই তাড়াহুড়ো এবং তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ওঠায় বর্তমান সরকার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ৬৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত তালিকায় ৪৭১টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য ১৮৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, ৬২৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৯২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং ১৩৫টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য ১০২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের কলেজের জন্য আরও প্রায় ২৯১ কোটি টাকার প্রস্তাব ছিল।
এই বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “আগের তালিকাটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি, তবে সেগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন আবেদনের সঙ্গে একত্রে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। আমরা চাই প্রকৃত যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোই যেন এমপিওভুক্ত হয়। প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে এই মূল্যায়ন শেষে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে আবেদনের সময়সীমা দ্রুতই ঘোষণা করা হবে। আগের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নতুন নিয়মে তথ্যাদি হালনাগাদ করতে হতে পারে। মূলত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিতর্কমুক্ত একটি এমপিও তালিকা তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য। বর্তমানে মাউশি ও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ নতুন যাচাই-বাছাইয়ের রূপরেখা তৈরিতে কাজ করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন