রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জায়েদ খানের সুখ দেখে জয়ের ‘হিংসা’

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৫, ০১:১২ পিএম

জায়েদ খানের সুখ দেখে জয়ের ‘হিংসা’

ছবি - সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিনোদন জগতে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা দুই ব্যক্তিত্বকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়শই নানা আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে। এদের একজন হলেন অভিনেতা জায়েদ খান, যিনি তার কর্মকাণ্ড, বক্তব্য এবং চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনকেন্দ্রিক নানা ঘটনাপ্রবাহের কারণে বছরজুড়েই সংবাদ শিরোনামে থাকেন। অন্যজন হলেন অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়, যিনি তার ব্যতিক্রমী এবং কখনো কখনো আক্রমণাত্মক উপস্থাপনার মাধ্যমে তারকাদের ভেতরের খবর বের করে আনার জন্য পরিচিত।

এবার সেই শাহরিয়ার নাজিম জয়ই মুখ খুললেন জায়েদ খানকে নিয়ে। তবে কোনো সমালোচনা নয়, বরং জায়েদ খানের সুখী জীবনযাপন দেখে তিনি যে ঈর্ষা বা ‘হিংসা’ করেন, তা অকপটে স্বীকার করলেন এই অভিনেতা-উপস্থাপক।বুধবার শাহরিয়ার নাজিম জয় তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও শেয়ার করে দীর্ঘ এক পোস্ট দেন। সেই পোস্টেই তিনি জায়েদ খানের প্রতি তার এই বিস্ময় ও ঈর্ষার কথা তুলে ধরেন।

জয়ের এই মন্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং বিনোদন অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়। সাধারণত জয়কে তারকাদের প্রতি কঠোর ও বিশ্লেষণধর্মী মন্তব্য করতে দেখা গেলেও, এবার তার লেখায় ছিল এক ভিন্ন সুর। তিনি জায়েদ খানের জীবনের বিতর্কিত দিকগুলো নিয়ে কোনো আগ্রহ দেখাননি। বরং দলমত ও রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে একজন মানুষের সুখী হওয়ার ক্ষমতাকে তিনি বড় করে দেখেছেন।

জয় তার পোস্টে লেখেন, জায়েদ খান কোনো অপরাধে অপরাধী কিনা বা তিনি কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য, তা নিয়ে তার কোনো আগ্রহ নেই। তিনি যা দেখে অবাক ও বিস্মিত হন তা হলো, একজন মানুষ কীভাবে এতটা সুখী হতে পারেন। জয় লিখেছেন, “দলমত এবং পলিটিক্স এর ঊর্ধ্বে ছোট্ট এই জীবনে মানুষের এই সুখকে আমি উপভোগ করি।” এই সুখ দেখে তিনি যে কেবল উপভোগ করেন তা-ই নয়, তিনি স্পষ্টই স্বীকার করেছেন, “পাশাপাশি হিংসাও করি।

” এই ঈর্ষার কারণটিও জয় ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি নিজের সঙ্গে জায়েদ খানের একটি মনস্তাত্ত্বিক তুলনা টেনেছেন। জয় মনে করেন, তার নিজের বিবেক, বুদ্ধি এবং সংবেদনশীলতা তাকে জায়েদ খানের মতো এতটা নির্ভার বা আনন্দ করতে দেয় না। এটি জয়ের একটি গভীর আত্ম-বিশ্লেষণমূলক স্বীকারোক্তি হিসেবেই দেখছেন নেটিজেনরা।

শাহরিয়ার নাজিম জয় তার পোস্টে আরও বলেন যে, যখন তিনি জায়েদ খানের এই বাঁধভাঙা আনন্দ এবং সুখী জীবনযাপন দেখেন, তখন তার নিজের বিবেক, বুদ্ধি এবং সংবেদনশীলতা—সবকিছুকেই তুচ্ছ বলে মনে হয়। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন যে, অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা বা পারিপার্শ্বিক বিষয় নিয়ে বেশি ভাবনা-চিন্তা অনেক সময় মানুষের সহজ সুখকে বাধাগ্রস্ত করে, যা জায়েদ খানের ক্ষেত্রে অনুপস্থিত।

জায়েদ খান তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা ট্রল, সমালোচনা বা বিতর্ককে পাশ কাটিয়ে যেভাবে নিজের মতো করে আনন্দে থাকতে পারেন, সেই ক্ষমতাটিকেই জয় সম্মান জানিয়েছেন।পোস্টের শেষে জয় জায়েদ খানের প্রতি শুভকামনা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “ভালো থাকেন ভাই। আপনার দ্বারা যেন কারো ক্ষতি না হয়। বিনোদন দিয়ে যান এভাবেই।” এই বার্তার মাধ্যমে জয় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে জায়েদ খান তার অভিনয় বা সিনেমার খবরের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছেন তার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড, মন্তব্য বা লাইফস্টাইল দিয়ে, যা নেটিজেনদের কাছে এক ধরনের বিনোদনের খোরাকে পরিণত হয়েছে। জয় সেই বাস্তবতাকেই স্বীকার করে নিয়েছেন। জয় তার পোস্টের শেষাংশে বাঙালির বিনোদনের অভাব নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, “বাঙালির বিনোদনের বড় অভাব। যে কোন একটা উপলক্ষ্যকে পেলে টেনে হেঁচড়ে বড় করে তারা উপভোগ করার জন্য খুব চেষ্টা করে কিন্তু আসলে কি তা উপভোগ্য হয়?

” জয়ের এই প্রশ্নটি যেন জায়েদ খানকে ঘিরে চলমান উন্মাদনার দিকেই একটি তীর্যক ইঙ্গিত, তবে তিনি জায়েদ খানকে সেই বিনোদনের উৎস হিসেবেই ইতিবাচকভাবে চালিয়ে যেতে বলেছেন। সব মিলিয়ে, জয়ের এই ফেসবুক পোস্টটি দুই তারকার মধ্যকার সম্পর্ক বা একে অপরের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির চেয়েও বেশি কিছু; এটি সমসাময়িক সেলিব্রিটি সংস্কৃতি এবং সুখের সংজ্ঞা নিয়ে একটি সামাজিক ভাষ্য হয়ে উঠেছে।