রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

তানজিন তিশাকে লিগ্যাল নোটিশ দিলেন নারী উদ্যোক্তা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৫, ০২:৩৮ পিএম

তানজিন তিশাকে লিগ্যাল নোটিশ দিলেন নারী উদ্যোক্তা

ছবি - সংগৃহীত

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন ঝিলিক নামের একজন নারী উদ্যোক্তা। বুধবার, ২২ অক্টোবর, অভিনেত্রীর ঠিকানায় এই লিগ্যাল নোটিশটি পাঠানো হয়। নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, একটি অনলাইন পেজের প্রচারণার বিনিময়ে দামী শাড়ি গ্রহণ করেও অভিনেত্রী চুক্তি অনুযায়ী কাজ করেননি, উল্টো উদ্যোক্তার সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী উদ্যোক্তা অভিনেত্রীর কাছে শাড়ির মূল্যসহ মোট এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা পরিশোধ না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।আইনজীবী মারফত পাঠানো ওই লিগ্যাল নোটিশে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। নোটিশে তানজিন তিশাকে সম্বোধন করে বলা হয়, তিনি বাংলাদেশের একজন পরিচিত মডেল, অভিনেত্রী এবং টিভি উপস্থাপিকা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মিডিয়া জগতে সুপরিচিত। এই পরিচিতির সুবাদেই তিনি নোটিশ প্রদানকারী উদ্যোক্তার অনলাইন পেজের সঙ্গে যুক্ত হন।

একপর্যায়ে তিনি পেজের বিভিন্ন শাড়ি পর্যবেক্ষণ করে একটি নির্দিষ্ট শাড়ি পছন্দ করেন, যার বাজার মূল্য ছিল আটাশ হাজার আটশত টাকা। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, তানজিন তিশা তার ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম আইডি থেকে উক্ত শাড়িটি কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু আমার মক্কেল (উদ্যোক্তা ঝিলিক) আপনাকে বাংলাদেশের অত্যন্ত পরিচিত মুখ ও অভিনেত্রী বিবেচনা করে একটি ভিন্ন প্রস্তাব দেন। তিনি সরল বিশ্বাসে সিদ্ধান্ত নেন যে, শাড়িটি তিনি অভিনেত্রীকে পেজ প্রমোশনের বিনিময়ে প্রদান করবেন, অর্থাৎ অভিনেত্রী শাড়িটি পরে তার পেজের প্রচারণা করে দেবেন।

এই সমঝোতার ভিত্তিতেই শাড়িটি অভিনেত্রীর বাসস্থানের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হয়।নোটিশে আরও বলা হয়, উদ্যোক্তা ঝিলিক অভিনেত্রীর কথার ওপর সম্পূর্ণ সরল বিশ্বাস রেখে শাড়িটি তার বাসায় পৌঁছে দেন। শাড়িটি গ্রহণ করার পর তানজিন তিশা বিভিন্ন সময়ে ভয়েস মেসেজ এবং লিখিত মেসেজের মাধ্যমে উদ্যোক্তাকে আশ্বস্ত করেন যে, তিনি শাড়িটি পরিধান করে ‘আপনিয়া’  পেজের প্রমোশন বা প্রচারণা করে দেবেন।

এই আশ্বাসের পর পেজ কর্তৃপক্ষ অভিনেত্রীকে নানাভাবে এবং নানা উপায়ে শাড়িটি পরে পেজ প্রমোশনের জন্য অনুরোধ করতে থাকেন। কিন্তু বিপত্তি ঘটে এরপরই। চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি অভিনেত্রী শাড়িটি গ্রহণ করেন। এর পর দীর্ঘ দশ মাস সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও তিনি সেই শাড়ি পরিধান করে কোনো পেজ প্রমোশন করেননি। নোটিশে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, অভিনেত্রী বিগত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে পেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ রক্ষা করেননি এবং তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই উদ্যোক্তার সঙ্গে সব ধরনের কথোপকথন থেকে নিজেকে বিরত রেখেছেন।

এই দীর্ঘ সময়ে তিনি পেজ প্রমোশন করা থেকে যেমন বিরত থেকেছেন, তেমনি শাড়িটির মূল্য প্রদান করা থেকেও বিরত রয়েছেন। উদ্যোক্তা ঝিলিক বিভিন্ন মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে কোনোপ্রকার সাড়া পাওয়া যায়নি বলে নোটিশে দাবি করা হয়।পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে যখন এই বিষয়টি বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতে শুরু করে। নোটিশে বলা হয়, সংবাদ প্রকাশের পর তানজিন তিশা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেন, যেখানে তিনি লেখেন, ‘গিফট নিয়ে হয়ে গেলাম প্রতারক।’

অভিনেত্রীর এই মন্তব্যকে নোটিশে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। উদ্যোক্তার আইনজীবী বলেন, তিশার এই বক্তব্য তার মতো একজন পরিচিত অভিনেত্রীর কাছ থেকে কাম্য নয় এবং এই বক্তব্যটি ‘একাধারে মানহানিকর, কুরুচিপূর্ণ, বানোয়াট এবং সত্য গোপন করার ছলছাতুরি মাত্র’। নোটিশের ভাষ্যমতে, তানজিন তিশা একজন সুপরিচিত অভিনেত্রী হওয়া সত্ত্বেও আটাশ হাজার আটশত টাকা মূল্যের একটি শাড়ি পেজ প্রমোশনের বিপরীতে গ্রহণ করেন, কিন্তু তিনি সেই প্রমোশন বা মূল্য পরিশোধ না করে উদ্যোক্তার সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন এবং প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন, যা বাংলাদেশ দণ্ডবিধি আইন অনুযায়ী একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আইনি নোটিশের শেষাংশে অভিনেত্রীর প্রতি সুস্পষ্ট দাবি ও চরমপত্র দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, যেহেতু দশ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরেও অভিনেত্রী গ্রহণকৃত শাড়ির বিপরীতে কোনো প্রমোশন না করে এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন, সেহেতু এই নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে তাকে অবশ্যই উদ্যোক্তার নিকট থেকে গ্রহণ করা শাড়িটির মূল্য এবং এই ঘটনায় উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক ও মানসিক ক্ষতিপূরণ বাবদ সর্বমোট এক লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। একইসঙ্গে, তার এই কৃতকর্মের জন্য উদ্যোক্তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করারও দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, অন্যথায়, অর্থাৎ সাত দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ ও ক্ষমা প্রার্থনা না করলে, আমার মক্কেল (উদ্যোক্তা ঝিলিক) আপনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দণ্ডবিধি আইনে উল্লিখিত ধারাসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারাসমূহে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন এবং সেই আইনি প্রক্রিয়ার যাবতীয় দায়-দায়িত্ব আপনাকেই বহন করতে হবে। এই আইনি নোটিশকে কেন্দ্র করে বিনোদন অঙ্গন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, অভিনেত্রী তানজিন তিশা এই নোটিশের জবাবে কোনো পাল্টা আইনি পদক্ষেপ নেন, নাকি উদ্যোক্তার সঙ্গে সমঝোতায় আসেন।