নভেম্বর ১৮, ২০২৫, ১০:৩৭ এএম
মিষ্টি বা চিনিযুক্ত খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, এই তথ্য প্রায় সবারই জানা। তা সত্ত্বেও, চকলেট, কেক, পেস্ট্রি বা রসগোল্লার মতো মিষ্টান্ন দেখলেই অনেকের মন দুর্বল হয়ে পড়ে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ভরপেট খাবার খাওয়ার পরও এই তীব্র আকাঙ্ক্ষা দেখা দেয়। সম্প্রতি গবেষকরা এই আচরণের পেছনের বৈজ্ঞানিক কারণগুলো ব্যাখ্যা করেছেন।
এই মিষ্টির আকাঙ্ক্ষার পেছনে মস্তিষ্কের একটি জটিল ভূমিকা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের 'হিপোক্যাম্পাস' নামক অংশটি মিষ্টি স্বাদের স্মৃতি ধরে রাখে।
যখনই সেই সুখকর অভিজ্ঞতা মনে পড়ে, খাওয়ার ইচ্ছাটিও প্রবল হয়ে ওঠে। মিষ্টি বা চর্বিজাতীয় খাবার খেলে মস্তিষ্কে 'ডোপামিন' নামক একটি রাসায়নিক নিঃসৃত হয়, যা আমাদের আনন্দ ও তৃপ্তির অনুভূতি দেয়। এ কারণেই পেট ভরা থাকলেও মস্তিষ্ক পুনরায় সেই আনন্দের জন্য মিষ্টি চাইতে থাকে।
এর পাশাপাশি 'সেরোটোনিন' নামক আরেকটি নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্যহীনতাও দায়ী। সেরোটোনিনের মাত্রা কমে গেলে দুশ্চিন্তা বা বিষণ্নতা বাড়ে, যা মানুষকে মিষ্টিজাতীয় খাবারের প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট করে তোলে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে আমাদের পূর্বপুরুষদের টিকে থাকার ইতিহাসও জড়িত। প্রাচীনকালে যখন খাদ্যের সংকট ছিল, তখন তারা ফল বা মধুর মতো উচ্চ-ক্যালরিযুক্ত খাবার পেলে শক্তি সঞ্চয়ের জন্য বেশি করে খেয়ে নিতেন। সেই জিনগত অভ্যাস আধুনিক সময়েও রয়ে গেছে। ফলে আজও শরীর ও মস্তিষ্ক একটি 'সুগার বুস্ট' বা বাড়তি শক্তির জন্য উদগ্রীব হতে পারে।
এছাড়া, রক্তে শর্করার আকস্মিক ওঠানামা এই ইচ্ছাকে উসকে দেয়। কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়ার পর রক্তে চিনির মাত্রা দ্রুত বাড়ে, যা নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। কিন্তু ইনসুলিনের প্রভাবে শর্করা দ্রুত কমে গেলে শরীর আবারও শক্তির জন্য চিনি চায়। একইসাথে ক্ষুধা উদ্দীপক ঘ্রেলিন এবং তৃপ্তির সংকেত দেওয়া লেপ্টিন হরমোনের ভারসাম্যহীনতাও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ মিষ্টি খাওয়ার এই ইচ্ছা স্বাভাবিক হলেও এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব মোটেও ভালো নয়। নিয়মিত অতিরিক্ত মিষ্টি গ্রহণ শরীরে নানা জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি করে, যার মধ্যে অন্যতম হলো ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং হৃদ্রোগ।
এটি মানসিক স্বাস্থ্যেরও অবনতি ঘটাতে পারে। চিকিৎসকরা তাই মিষ্টি খাওয়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, খেতে হলে খুব অল্প পরিমাণে খাওয়া উচিত। প্রক্রিয়াজাত মিষ্টির পরিবর্তে প্রাকৃতিক উৎস যেমন ফল খাওয়া যেতে পারে। বিকল্প হিসেবে এক কাপ গরম চাও এই আকাঙ্ক্ষা কমাতে পারে। সবচেয়ে জরুরি হলো 'মাইন্ডফুল ইটিং' বা মননশীল খাওয়ার অভ্যাস করা এবং প্রকৃত ক্ষুধা ও নিছক অভ্যাসের মধ্যকার পার্থক্য বোঝার চেষ্টা করা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন