সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ায় গত ১৫ দিনে তিন শিশুসহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলাটিকে ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। সেই সঙ্গে উপজেলার সাতটি এলাকাকে চিহ্নিত করা হয়েছে বিশেষ নজরদারির আওতাভুক্ত এলাকা হিসেবে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে পৌরসভা এলাকায় সাত দিনের পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান শুরু হয়েছে। আগামী ২ অক্টোবর পর্যন্ত এই সমন্বিত কর্মসূচি চলবে। জেলা প্রশাসনের তথ্য বলছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই উপজেলায় আক্রান্ত হয়ে সাতজনের প্রাণহানি ঘটে। এ ছাড়া ২৬ আগস্ট থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক মাসে উপজেলায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৫১৭ জনের দেহে, যা পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ তৈরি হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। শয্যা সংকটের কারণে কয়েকজনকে বারান্দা ও মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া জানান, জেলার ১৫টি উপজেলার মধ্যে সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি হওয়ায় চিহ্নিত সাতটি এলাকায় বাড়তি নজরদারি থাকবে এবং ২ অক্টোবর পর্যন্ত সব এলাকায় একযোগে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কাজ চলবে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান জানান, রোগী দ্রুত শনাক্ত করতে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন থেকে বাড়িঘর ও আশপাশের ফুলের টব কিংবা পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পানি অবিলম্বে অপসারণের আহ্বান জানানো হয়েছে। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন