রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরও ৪ মৃত্যু, আক্রান্ত ৭৮৭

স্বাস্থ্য ডেস্ক

এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম

হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরও ৪ মৃত্যু, আক্রান্ত ৭৮৭

দেশে বায়ুবাহিত রোগ হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ রোগের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ৭৮৭ জনের মধ্যে হামের লক্ষণ বা সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা গেছে। শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে পাঠানো এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে সংক্রমণের এই সর্বশেষ পরিসংখ্যান জানানো হয়েছে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মাঠ পর্যায়ে সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে।চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে আজ ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে সন্দেহভাজন হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪৭৬ জনে। 

এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮২৬ জনের শরীরে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬০ জনের নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সংক্রমণ বৃদ্ধির এই ধারা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে এই রোগের বিস্তার রোধে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

মৃত্যুর পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ২০ দিনে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮ জন মারা গেছেন, যার মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে সর্বশেষ এক দিনে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মৃত ৯৮ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ হিসেবে হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকিদের মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা ছিল কি না, তা নিয়ে এখনো উচ্চতর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে।

হাসপাতালগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৬২৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে ২ হাজার ৬৫৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। চিকিৎসকরা বর্তমানে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিয়মিত টিকার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় কোনো এলাকায় সংক্রমণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সন্দেহজনক কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার জন্য সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো শিথিলতা ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।