মে ৫, ২০২৬, ১০:২৭ এএম
দেশে হাম সংক্রমণ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আগেই সতর্ক করেছিল জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ। ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া জানিয়েছেন, অজ্ঞাত কারণে সেই সতর্কবার্তা আমলে নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি একটি বার্তা সংস্থাকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন।
স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া জানান, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওপেন টেন্ডার মেথড) ৫০ শতাংশ টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। এই প্রক্রিয়ায় সামগ্রিক টিকা ক্রয়ে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত বিলম্ব হতে পারে বলে ইউনিসেফ ও অংশীদারেরা সে সময় উদ্বেগ জানিয়েছিল। সতর্কতা সত্ত্বেও উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এগোনোর সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। এর ফলে টিকা সংগ্রহে বিলম্ব ঘটে।
ঘাটতি মোকাবিলায় ইউনিসেফ নিজস্বভাবে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার আগাম অর্থায়নের ব্যবস্থা করে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কিছু টিকার মজুত বজায় রাখে।
তবে কিছু টিকার মজুত এর আগেই শেষ হয়ে যায় এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঘাটতি দেখা দেয়। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ সম্পন্ন করা যায়নি এবং অন্তর্বর্তী সরকার ইউনিসেফকে বরাদ্দ দেওয়া অর্থও ছাড় করতে পারেনি।২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দেশে প্রথম হামের রোগী শনাক্ত হয়। রোগ নজরদারি ও প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্বের কারণে মার্চ মাসের শেষ দিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ইউনিসেফ আনুষ্ঠানিকভাবে হাম রোগী বৃদ্ধির তথ্য পায়। প্রাদুর্ভাবের পেছনে টিকার ঘাটতি, প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্ব, জনগোষ্ঠীর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া এবং ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় ধাপ পরিচালনা করতে না পারাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়। মার্চ মাসে নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি বাতিলের নির্দেশ দেন। এরপর এপ্রিলে পুনরায় ইউনিসেফের মাধ্যমে আগের পদ্ধতিতে টিকা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইউনিসেফের সংগ্রহে থাকা হাম-রুবেলার (এমআর) টিকা দিয়ে গত ৫ এপ্রিল থেকে ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে।
টিকার সম্ভাব্য ঘাটতি, রোগের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুহারের ঝুঁকি নিয়ে ইউনিসেফ একাধিকবার অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছে। প্রতিটি বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমেও তাদের সতর্ক করা হয়েছিল বলে স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশে ১৯৭৯ সালে ইপিআই চালুর পর থেকে ইউনিসেফ কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে। এর ফলে দেশে পূর্ণ টিকাদান কাভারেজ ১৯৮০ সালের ২ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে ৮২ শতাংশে উন্নীত হয়। বিশ্বব্যাপী ইউনিসেফ শতাধিক দেশে প্রায় ৪৫ শতাংশ টিকা সরবরাহ করে। ২০১৭-১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে টিকা সরবরাহ বজায় রাখতে ইউনিসেফ প্রায় ২ কোটি ডলার ব্যয় করেছিল।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন