মে ৭, ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম
হিমোগ্লোবিন স্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ার কারণে রক্তে লাল কণিকার পরিমাণ কমে যায়, যার ফলে শরীরে অক্সিজেন পরিবহন ব্যাহত হয়। এর প্রভাবে শরীরে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লাল মাংস, কলিজা, ডিমের কুসুম ও সামুদ্রিক মাছ আয়রনের অন্যতম প্রাণিজ উৎস, যা শরীর দ্রুত গ্রহণ করতে পারে। উদ্ভিজ্জ উৎসের মধ্যে পালংশাক, লাল শাক, মসুর ডাল, ছোলা, কিশমিশ, খেজুর ও বিটরুট নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা কার্যকর।
আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি ভিটামিন ‘সি’ যুক্ত ফল ও সবজি গ্রহণ করা জরুরি। ভিটামিন ‘সি’ শরীরে আয়রন শোষণের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। তাই খাবারের সঙ্গে লেবু, কমলা, আমলকী, পেয়ারা বা টমেটো খাওয়ার অভ্যাস করা উপকারী।
কিছু ক্ষেত্রে শুধুমাত্র খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে ঘাটতি পূরণ সম্ভব হয় না। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, বাড়ন্ত শিশু এবং তীব্র অপুষ্টিতে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে আয়রন ট্যাবলেট বা সিরাপের প্রয়োজন হতে পারে। দীর্ঘদিন দুর্বলতা বা ফ্যাকাশে ভাব থাকলে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে হিমোগ্লোবিনের প্রকৃত মাত্রা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।অন্যদিকে, কিছু পানীয় আয়রন শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। চা ও কফিতে থাকা উপাদান আয়রন গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে, তাই খাবারের ঠিক পরপরই এগুলো পান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা রক্তে হিমোগ্লোবিনের মান স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।হিমোগ্লোবিন কমার পেছনে আয়রন ছাড়াও ভিটামিন বি-১২ বা ফোলেটের অভাব থাকতে পারে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাবার এবং চিকিৎসকের সঠিক নির্দেশনাই হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। মূলত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও পরিমিত পুষ্টির মাধ্যমেই রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন