মে ১২, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
তীব্র গরমের সময়ে স্বস্তি পেতে এয়ার কন্ডিশনার বা এসি এখন ঘর, অফিস ও যানবাহনে সাধারণ একটি উপকরণে পরিণত হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসির দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার যেমন আরাম দেয়, তেমনি এটি কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।ওয়েবমেডের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এয়ারকন্ডিশন রুমের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, এয়ার কন্ডিশনার মূলত ঘরের আর্দ্রতা কমিয়ে বাতাস ঠাণ্ডা করে।
এর ফলে মানুষের ত্বক ও শরীর থেকে আর্দ্রতা কমে গিয়ে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে।গবেষণায় দেখা গেছে, যারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভবনে দীর্ঘক্ষণ কাজ করেন, তাদের মধ্যে নাকের ভেতরে জ্বালা ও শ্বাসকষ্টসহ শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যা বেশি দেখা যায়। প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলযুক্ত স্থানের তুলনায় এসব কৃত্রিম পরিবেশে শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বেশি থাকে।
এসির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না করলে মাথাব্যথা বা মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়তে পারে। একটি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অস্বাস্থ্যকর ঘরের বাতাসে কাজ করা ১৬ শতাংশ মানুষ নিয়মিত মাথাব্যথায় ভোগেন। এছাড়া এসিতে আর্দ্রতা কম থাকায় চোখের পানি শুকিয়ে গিয়ে জ্বালা, চুলকানি এমনকি দৃষ্টি ঝাপসা হওয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে।
যেসব শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভবনে বায়ু চলাচল কম, সেখানে `সিক বিল্ডিং সিনড্রোম`-এর ঝুঁকি থাকে। এর ফলে মাথাব্যথা, শুকনো কাশি, মাথা ঘোরা, বমিভাব ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘসময় এসিতে থাকলে শরীর গরম আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা হারাতে শুরু করে, যাকে বিজ্ঞানীরা `অ্যাডাপটিভ কমফোর্ট মডেল` হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তবে স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি এসির কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬০ থেকে ৬৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার ঘর ভালো ঘুমের জন্য বেশ সহায়ক। এছাড়া ঠাণ্ডা পরিবেশে শরীর শক্তি পোড়ানো চর্বি বা `ব্রাউন ফ্যাট` বাড়াতে পারে, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। ২০১৮ সালে হার্ভার্ডের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঠাণ্ডা পরিবেশে থাকা শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি ও পরীক্ষার ফল এসিবিহীন পরিবেশে থাকা শিক্ষার্থীদের তুলনায় ভালো ছিল।
তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতেও এসি জীবনরক্ষাকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। এসির স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত এসির ফিল্টার পরিবর্তন করা, মাঝে মাঝে জানলা খুলে দেওয়া এবং ঘরের আর্দ্রতা বজায় রাখা। এছাড়া হাঁচি বা কাশির সময় নাক-মুখ ঢেকে রাখা এবং এসির ফিল্টার পরিষ্কার রাখলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটা কমে আসে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন