মে ২৩, ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
দেশে হাম ও এর উপসর্গে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি কেন এই পর্যায়ে পৌঁছাল, তা খতিয়ে দেখতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সহায়তা চেয়েছে সরকার। সংস্থাটিকে একটি স্বাধীন তদন্ত করার জন্য অনানুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে ৮৬টি শিশু। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৪২৬ জন। উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬২ হাজারের বেশি শিশু।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশুদের ব্যাপক টিকাদানের উদ্যোগ নিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে মৃত্যুর এই সর্বশেষ পরিসংখ্যান জানানো হয়েছে।টিকা সংকট ও মৃত্যুর দায় নিয়ে চলছে চরম বিতর্ক। ইউনিসেফ দাবি করেছে, তারা হাম পরিস্থিতি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে অন্তত পাঁচটি চিঠি দিয়েছিল এবং ১০ বার সতর্ক করেছিল।
কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, অন্তর্বর্তী সরকার উন্মুক্ত টেন্ডারে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনেক দেরি হয়ে যায়।বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। শিশুমৃত্যুর ঘটনা তদন্তে কেন কমিশন গঠনের নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রিট আবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিসেফের মাধ্যম বাদ দিয়ে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি চালু করায় দেশে টিকার তীব্র সংকট তৈরি হয়।
বাংলাদেশে সাধারণত শিশুদের ৯ মাস এবং ১৫ মাস বয়সে হাম-রুবেলার দুটি ডোজ দেওয়া হয়। এছাড়া কোনো শিশু যাতে বাদ না পড়ে, সেজন্য প্রতি চার বছর অন্তর দেশব্যাপী বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানো হয়। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই ক্যাম্পেইন হয়নি। করোনা মহামারির সময় ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সি শিশুদের অনেকেই হাসপাতালে নিতে পারেননি অভিভাবকরা। এরপর রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণেও টিকাদান কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতির জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক পরিচালক বেনজীর আহমদ জানান, বর্তমান যুগে এত শিশুর মৃত্যু অকল্পনীয়। শুরুতেই মহামারি ঘোষণা করে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিলে এত প্রাণহানি দেখতে হতো না। বিশ্বজুড়েই হামের সংক্রমণ বাড়ছে বলে গত এপ্রিলেই বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন