সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫, ১০:১২ পিএম
রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় অ্যানথ্রাক্স (Anthrax) রোগের উপসর্গ নিয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে, এবং একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে উপজেলাটির শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পীরগাছা ইউনিয়নের আব্দুর রাজ্জাক এবং পারুল ইউনিয়নের আনন্দী ধনিরাম গ্রামের কমলা বেগম অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। এছাড়া পীরগাছা সদর, তাম্বুলপুর, ছাওলা ও পারুল ইউনিয়নের শতাধিক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও স্বাস্থ্য বিভাগ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি যে আক্রান্ত ও মৃত্যুর কারণ অ্যানথ্রাক্স ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ কিনা, তবে এলাকাবাসী জানান, আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পীরগাছার বিভিন্ন এলাকায় অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস ভাগাভাগি করে নেওয়ার পর থেকেই এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। মাংস কাটাকাটি বা অসুস্থ পশুর সংস্পর্শে যাওয়া ব্যক্তিরাই মূলত আক্রান্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, এটি সাধারণত 'কিউটেনিয়াস অ্যানথ্রাক্স' যা সহজে মানুষ মরে যায় না এবং চিকিৎসার আওতায় এলে কোনো সমস্যা হয় না। তারপরও রোগটি প্রাণী থেকে মানুষে ছড়াতে পারে (Zoonotic Disease) বিধায় প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর শুধু পীরগাছা উপজেলা নয়, আশেপাশের এলাকাতেও পশুদের জন্য ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম চালাচ্ছে। সিভিল সার্জন অফিস জানিয়েছে, রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসিআর-কে (IEDCR) এ বিষয়ে জানানো হয়েছে এবং আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আতঙ্কিত না হয়ে সকলকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে রোগটি রংপুর সদর, কাউনিয়া ও মিঠাপুকুরসহ জেলাজুড়ে মহামারি আকার ধারণ করতে পারে বলে জেলাবাসীর আশঙ্কা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন