অক্টোবর ৩, ২০২৫, ১১:১৩ পিএম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কিশামত সদর গ্রামের ১১ ব্যক্তির শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ওই গ্রামের রোগাক্রান্ত একটি গরু জবাইয়ের পর মাংস কাটাকাটির সঙ্গে তারা যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচজনকে ইতোমধ্যে গাইবান্ধার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বাকিরা বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ইউপি সদস্য হাফিজার রহমান জানান, গত ২৯ সেপ্টেম্বর ওই গ্রামের মন্টু মেম্বারের বড় ভাই মাহবুর রহমানের একটি অসুস্থ গরু স্থানীয়রা জবাই করে মাংস কাটাকাটি করেন। আক্রান্ত ১১ জন এই কাজে যুক্ত ছিলেন।চার দিন পর বৃহস্পতিবার তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোসকা দেখা দেয় এবং মাংসে পচন ধরতে শুরু করে। বিশেষ করে হাত, নাক, মুখ ও চোখে এই ধরনের উপসর্গ দেখা গেছে।
আহতদের মধ্যে মোজা মিয়া, মোজাফফর মিয়া, শফিকুল ইসলাম ও মাহবুর রহমানের অবস্থা গুরুতর। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিবাকর বসাক নিশ্চিত করেন, অ্যানথ্রাক্স রোগের উপসর্গ নিয়ে চার-পাঁচজন হাসপাতালে এসেছিলেন, যাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গাইবান্ধা হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী পীরগাছা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে গরু-ছাগলের মধ্যে অ্যানথ্রাক্স রোগের প্রকোপ ছিল।
বর্তমানে এই রোগ সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে ঘাঘট ও তিস্তা নদীবেষ্টিত বামনডাঙ্গা, সর্বানন্দ, তারাপুর, বেলকা এবং পৌরসভা এলাকায় ছড়িয়েছে।উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডাক্তার মো. মোজাম্মেল হক জানান, পৌরসভায় ইতিমধ্যে দুটি গরু অ্যানথ্রাক্সে মারা গেছে। সাহাবাজ এলাকায় রোগ দেখা দেওয়ায় সেখানে টিকা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রাণিসম্পদ বিভাগের কাছে বর্তমানে ১৩ হাজার টিকা মজুত আছে এবং আরও টিকার জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
অ্যানথ্রাক্স একটি জুনোটিক রোগ যা সাধারণত আক্রান্ত পশুর মাধ্যমে মানুষের দেহে ছড়ায়। এই পরিস্থিতিতে রোগাক্রান্ত পশুর মাংস না খাওয়া এবং যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা খুবই জরুরি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন