রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক, ১১ জন শনাক্ত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৪, ২০২৫, ০৯:৩১ পিএম

গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক,  ১১ জন শনাক্ত

ছবি - সংগৃহীত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ১১ ব্যক্তির শরীরে অ্যানথ্রাক্স রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। অসুস্থ একটি গরুর মাংস কাটাকাটির পর তারা এতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের কিশামত সদর গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের বাসিন্দা মাহবুর রহমানের একটি অসুস্থ গরু সম্প্রতি জবাই করা হয়। জবাই ও মাংস ভাগাভাগির কাজে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরাই পরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। মাংস কাটার প্রায় চার দিন পর গত বৃহস্পতিবার থেকে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোসকা পড়া এবং চামড়ায় পচন ধরার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। আক্রান্তদের বেশিরভাগের হাত, নাক, মুখ এবং চোখের আশেপাশে সংক্রমণের চিহ্ন স্পষ্ট।

বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. হাফিজার রহমান জানান, অসুস্থ গরুটি জবাই করে মাংস কাটাকাটিতে অংশ নেওয়া ১১ জনই সংক্রমিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মাহবুর রহমান, মোজাফফর হোসেন, মোজাম্মেল হক ও শফিকুল ইসলামের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের গাইবান্ধার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পার্শ্ববর্তী রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের প্রকোপ রয়েছে, যা এখন সুন্দরগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে গবাদিপশুকে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. মোজাম্মেল হক বলেন,

অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশু জবাই করে মাংস কাটাকাটি করলে মানুষের মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে রান্না করা মাংস খেলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নেই। তিনি আরও জানান, এই ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না, এটি কেবল অসুস্থ গবাদিপশু থেকে ছড়ায়। তাই অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত কোনো পশুকে জবাই না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।