রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে জরুরি কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৫, ২০২৫, ০৭:৩৯ পিএম

অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে জরুরি কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার

ছবি - সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন জেলায় গবাদিপশুর মধ্যে অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় এর বিস্তার রোধ ও নিয়ন্ত্রণে জরুরি ও সমন্বিত কার্যক্রম শুরু করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। এটি একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত জুনোটিক রোগ, যা আক্রান্ত পশু থেকে মানুষের মধ্যেও সংক্রমিত হতে পারে, তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় গবাদিপশুর গণটিকাদান, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। অসুস্থ পশু জবাই প্রতিরোধ এবং খামারের প্রতিটি পশুকে টিকার আওতায় আনার জন্য মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তারা কাজ করছেন। ‘ওয়ান হেলথ’ কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

বিশেষ করে রংপুর ও গাইবান্ধা জেলাকে অ্যানথ্রাক্সপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (এলআরআই) থেকে রংপুর বিভাগের জন্য প্রায় ৩০ লাখ অ্যানথ্রাক্স টিকা সরবরাহ করা হবে, যার মধ্যে শুধুমাত্র রংপুর ও গাইবান্ধা জেলাতেই ২০ লাখ টিকা পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১ লাখ ৬৭ হাজার এবং গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ২৬ হাজার ৪০০ গরুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

গাইবান্ধা থেকে সংগৃহীত ১১টি মাংসের নমুনার মধ্যে ১০টিতে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছে অধিদপ্তর। পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর একটি উচ্চ পর্যায়ের অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে, যারা আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেবে। অসুস্থ পশু জবাই না করা এবং মৃত পশুকে খোলা স্থানে না ফেলে গভীরভাবে মাটিচাপা দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।