রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ডেঙ্গু ছড়ানো এডিস মশা চিনবেন কীভাবে? জেনে নিন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৮, ২০২৫, ১১:২৭ এএম

ডেঙ্গু ছড়ানো এডিস মশা চিনবেন কীভাবে? জেনে নিন

বাংলাদেশে মশার কামড়ে প্রতি বছরই অসংখ্য মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এবং মারাও যাচ্ছেন অনেকে। চলতি বছরেও ডেঙ্গু আক্রান্তের পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে এডিস মশার নির্মূল করার কোনো বিকল্প নেই, আর এই কাজটি শুরু করতে হবে মশা চেনার মাধ্যমে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৭৬ হাজার ৫১৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৩০৭ জন মারা গেছেন। ২০২৩ সালে দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ আকার ধারণ করেছিল।ডেঙ্গি ভাইরাসের বাহক হলো এডিস ইজিপ্টাই এবং এডিস এলবোপিকটাস জাতের মশা। কীটতত্ত্ববিদদের মতে, ডেঙ্গুর জীবাণু বহনকারী এডিস মশা খালি চোখে দেখেই শনাক্ত করা সম্ভব।

ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং কীটতত্ত্ববিদদের তথ্য অনুযায়ী এডিস মশার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:ডোরাকাটা দাগ: এডিস মশার দেহে সাদা কালো ডোরাকাটা দাগ থাকে, যে কারণে এটিকে টাইগার মশাও বলা হয়।আকার: এই জাতীয় মশা সাধারণত মাঝারি আকারের হয়ে থাকে।অ্যান্টেনা: এর অ্যান্টেনা বা শুর দেখতে কিছুটা লোমশ হয়। পুরুষ মশার অ্যান্টেনা স্ত্রী মশার চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি লোমশ দেখতে হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, দেহের ডোরাকাটা দাগ এবং অ্যান্টেনা দেখেই এডিস মশা চেনা সম্ভব।অধ্যাপক কবিরুল বাশার জানিয়েছেন, এডিস মশা সাধারণত স্বচ্ছ পানিতে ডিম পাড়ে এবং শহর এলাকার সৌন্দর্যবর্ধক বাগান, পাত্র বা টবে জমে থাকা পানিতে জন্মায়। তবে ২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই মশা নোংরা পানিতেও বংশ বিস্তার করতে পারে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মুশতাক হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমানোর জন্য কেবল কীটনাশকের ধোঁয়া ছিটিয়ে এডিস মশা নির্মূল করা সম্ভব নয়, প্রয়োজন কমিউনিটি এনগেজমেন্ট বা সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। আগে কেবল শহর এলাকায় এডিস মশার প্রাদুর্ভাব দেখা গেলেও বর্তমানে নগরায়নের প্রভাবে গ্রামেও এটি পৌঁছে গেছে।