অক্টোবর ২, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
জ্বর, সর্দি কিংবা কাশি দেখা দিলেই সাধারণত ঠান্ডা খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। আইসক্রিম বা কোমল পানীয় তো দূরের কথা, ফ্রিজের সাধারণ পানি পান করাও বিপজ্জনক বলে মনে করেন অনেকে। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী ঠান্ডা খাবার খেলে শরীরে শ্লেষ্মা বা কফ জমা হয় এবং ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত বেড়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই ধারণার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ সর্দি-জ্বরের জন্য দায়ী ভাইরাসের সংক্রমণের সঙ্গে আইসক্রিম কিংবা ঠান্ডা পানীয় গ্রহণের সরাসরি কোনো যোগাযোগ নেই। অর্থাৎ আইসক্রিম খেলেই ভাইরাসের তীব্রতা বাড়বে কিংবা শরীরে অতিরিক্ত কফ তৈরি হবে, এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি।
ঠান্ডা খাবার সবার শরীরে একভাবে কাজ করে না। কারো ক্ষেত্রে আইসক্রিম বা ঠান্ডা পানি পানে গলায় সাময়িক স্বস্তির অনুভূতি হয়, আবার কারো ক্ষেত্রে গলায় খুশখুশে ভাব বা কাশির তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে পারে। নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া কেমন হচ্ছে, সেটি পর্যবেক্ষণ করাই এখানে প্রধান বিবেচ্য।
দুধ, দই বা অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার খেলে শরীরে কফ তৈরি হয় বলে বহু বছর ধরে প্রচলিত বিশ্বাস থাকলেও গবেষণায় এর সত্যতা মেলেনি। তবে দুধ বা আইসক্রিম খাওয়ার পর মুখ ও গলার ভেতরের অংশে সাময়িকভাবে ঘন আস্তরণের অনুভূতি তৈরি হতে পারে। আইসক্রিম খাওয়ার সময় মুখ ও গলায় শীতল ভাব সৃষ্টি করে, তবে তা শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা স্থায়ীভাবে কমিয়ে দেয় না। খাবার পরিপাকের সময় শরীর নিজস্ব শক্তি ব্যবহার করে স্বাভাবিকভাবেই তাপ উৎপাদন করে। তবে আইসক্রিমে চিনি ও চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে, যা বাড়তি ক্যালোরি গ্রহণের কারণ হতে পারে। একই সতর্কতা কোমল পানীয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যা সর্দির ভাইরাস না বাড়ালেও নিয়মিত খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
সর্দি-কাশির সময় ঠান্ডা পানীয় বা আইসক্রিম খেয়ে অস্বস্তি বা কাশি বাড়লে তা সাময়িকভাবে পরিহার করাই শ্রেয়। তবে কোনো শারীরিক অস্বস্তি না থাকলে শুধুমাত্র কফ জমার ভয়ে প্রিয় খাবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার প্রয়োজন নেই। এমন অবস্থায় শরীরে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ ও আরাম নিশ্চিত করা জরুরি। গলায় অস্বস্তি দেখা দিলে কুসুম গরম পানি, স্যুপ কিংবা উষ্ণ পানীয় স্বস্তি জোগায়।
অসুস্থতার সময় কেবল খাবারের তাপমাত্রায় সীমাবদ্ধ না থেকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে। জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা মারাত্মক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন