শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মাছ-মুরগির খাবারে বিষাক্ত ট্যানারি বর্জ্য: স্বাস্থ্যঝুঁকি

স্বাস্থ্য ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ১১:৪৭ এএম

মাছ-মুরগির খাবারে বিষাক্ত ট্যানারি বর্জ্য: স্বাস্থ্যঝুঁকি

সাভার ও কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার ট্যানারি বর্জ্য ও চামড়ার উচ্ছিষ্টাংশ লোকচক্ষুর আড়ালে প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হচ্ছে মাছ ও মুরগির খাদ্য। সাভারের হেমায়েতপুরের ভাকুর্তা ইউনিয়নের একটি নির্জন এলাকায় প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ এই কর্মকাণ্ড চলছে। চামড়ার ফেলে দেওয়া অংশ সেদ্ধ করে শুকানোর পর মেশিনে গুঁড়ো ও কয়লা মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে পোলট্রি ও মাছের কৃত্রিম ফিড। সেখানে কর্মরত শ্রমিকেরা নিজেরাও জানেন না তারা কী ধরনের বিপজ্জনক রাসায়নিক উপাদান নিয়ে কাজ করছেন।

আইনত নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ট্যানারির বর্জ্য দিয়েই তৈরি হচ্ছে পশুখাদ্য। মাছ দ্রুত বড় করতে খামারিরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাজারজাতকৃত ফিড ব্যবহার করছেন, যা প্রয়োগের পরপরই মাছের দ্রুত বৃদ্ধি চোখে পড়ে। খামার থেকে আড়ত হয়ে খুচরা বাজারে পৌঁছানোর বিভিন্ন ধাপে মাছে মেশানো হচ্ছে কাপড়ের লালচে রং, ক্ষতিকর জেলি ও প্রিজারভেটিভ। চাষের সাধারণ শিং ও মাগুর মাছকে দেশি প্রজাতির হিসেবে চালিয়ে দিতে এই ধরনের রঙের কারসাজি করা হচ্ছে। ২০০ টাকা কেজি দরে চাষের মাছ কিনে তাতে রং ও রাসায়নিক মিশিয়ে বাজারে দেশি মাছের নামে এক হাজার টাকায় বিক্রি করছেন অসাধু বিক্রেতারা।

অসুস্থ রোগীর পথ্য হিসেবে যে মাছ কেনা হচ্ছে, রাসায়নিকের কারণে তা বিষে পরিণত হচ্ছে। আমিষের আরেক প্রধান উৎস পোলট্রি মুরগির ক্ষেত্রেও ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়েছে। খামারে দ্রুত ওজন বাড়ানো এবং রোগ দমনের নামে চার-পাঁচ জাতের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হচ্ছে অনিয়ন্ত্রিতভাবে। মুরগি দ্রুত বাড়াতে খামারিরা নিয়মবহির্ভূতভাবে মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ প্রয়োগ করছেন, যাদের এর সঠিক মাত্রা বা ডোজ সম্পর্কে কোনো বৈজ্ঞানিক ধারণা নেই। খামার থেকে পরিবহনের সময় ওজন কমে যাওয়ার ঘাটতি পূরণে বিক্রির ঠিক আগমুহূর্তেও মুরগিকে মাত্রাতিরিক্ত খাবার গিলিয়ে ওজন ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিষাক্ত এই চক্রের প্রভাবে মানুষের লিভার ও কিডনি মারাত্মকভাবে বিকল হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপকের মতে, ট্যানারির বর্জ্যে তৈরি পশুখাদ্যের মাধ্যমে মাছ ও মুরগির দেহে ক্রোমিয়াম ও সিসার মতো ক্ষতিকর ভারী ধাতু প্রবেশ করছে। এই বিষাক্ত খাবার খেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা মাছ ও মুরগি গ্রহণের ফলে দীর্ঘমেয়াদে মানুষের লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতা, ক্যানসার ও হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। যে মুরগি স্বাভাবিক নিয়মে বড় হতে তিন মাস সময় লাগার কথা, তা মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ও বিষাক্ত বর্জ্য খেয়ে এক মাসেই বাজারে চলে আসছে। ফলে নিরাপদ আমিষ নিশ্চিত না হওয়ায় পরিবারের সুস্থতার বদলে মানুষ জটিল রোগের শিকার হচ্ছে।