আগস্ট ৪, ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া আটটি ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে ভয়াবহ মাত্রায় মার্কারি বা পারদ শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন বা বিএসটিআই। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এসব পণ্য বিক্রি, বিতরণ, মজুদ ও ব্যবহার থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে আহ্বান জানিয়েছে সরকারি এই সংস্থাটি।আজ মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানিয়েছে, বাজার থেকে সংগৃহীত প্রসাধনী পরীক্ষা করে মানদণ্ডের তুলনায় অস্বাভাবিক মাত্রার ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত সর্বোচ্চ এক পিপিএম সীমার বিপরীতে এসব ক্রিমে বহু গুণ বেশি মার্কারি মিলেছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের চাঁদনি হোয়াইটনিং ক্রিমে ১২০ দশমিক ৩৯, নিউ ফেস বিউটি ক্রিমে ৪৪ দশমিক ৭২, নাভিয়া বিউটি ক্রিমে ৫৯ দশমিক ৮২ এবং নাভিয়া হোয়াইটনিং ক্রিমে ৭৯ দশমিক ৭০ পিপিএম মার্কারি পাওয়া গেছে। এছাড়া নুর হোয়াইটনিং ক্রিমে ৮২ দশমিক ৭৬, ডিউ বিউটি ক্রিমে ১২৩ দশমিক ৩৭, গৌরি বিউটি ক্রিমে ৫৬ দশমিক ৯৩ এবং চীনের ন্যাচারাল পার্ল স্কিন ক্রিমে ৬৭ দশমিক ৪৯ পিপিএম পারদ শনাক্ত করা হয়েছে।
অবৈধ পথে বা লাগেজ পার্টির মাধ্যমে কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন ছাড়া এসব প্রসাধনী দেশে প্রবেশ করায় পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক স্পষ্ট জানিয়েছেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না এবং ক্ষতিকর প্রসাধনী বিপণনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন মার্কারিযুক্ত এসব ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বকের স্থায়ী ক্ষতি, পাতলা হয়ে যাওয়া, অ্যালার্জি, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে অনাগত শিশুর স্বাভাবিক বিকাশও গুরুতরভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন