বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সিঙ্গেল দিবস আজ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ১১:০৩ এএম

সিঙ্গেল দিবস আজ

সিঙ্গেল দিবস

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সিঙ্গেল দিবস। যারা এখনো একা বা অবিবাহিত জীবন যাপন করছেন, তাদের জন্য আজকের দিনটি নিজেদের মতো করে উদযাপনের একটি বিশেষ সুযোগ নিয়ে এসেছে। কারেন রিড নামের এক ব্যক্তি প্রথম এই দিবসটির প্রচলন করেন। শুরুর দিকে প্রতি বছর পয়লা জানুয়ারি দিনটি পালন করা হতো। পরবর্তীতে ২০১৭ সাল থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর এই দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূলত এই দিনটিতেই সিঙ্গেল দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়। অন্যদিকে চীনে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে প্রতি বছর ১১ নভেম্বর দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে।

সিঙ্গেল বা একা থাকার কারণে অনেকের মনে নানা সময়ে হতাশা বা মন খারাপের অনুভূতি তৈরি হয়। অনেকে এটিকে কেবলই একটি নেতিবাচক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে বাস্তবতা সব সময় তেমন নয়। একা থাকার সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো সম্পূর্ণ নিজের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ পাওয়া যায়। নিজের কর্মজীবন বা ক্যারিয়ারে নিবিষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিভিন্ন পছন্দের কাজে পুরো সময় ব্যয় করা সম্ভব হয়। অনেকের মতে, অন্য কাউকে ভালোবাসার পূর্বে নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং নিজেকে ভালোবাসা সবচেয়ে বেশি জরুরি। একা থাকলে নিজের প্রতি যত্ন নেওয়ার সেই সুযোগ অনেক বেশি তৈরি হয়।

একা থাকাকে হতাশার কারণ না বানিয়ে বরং এটিকে গর্বের সাথে উদযাপনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। চীনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই এটি ইতিবাচকভাবে পালন করছেন। মানুষ যেন একা থাকার জন্য হীনম্মন্যতায় না ভুগে বরং একে একটি স্বাভাবিক অবস্থা হিসেবে উদযাপন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এমন দিবসের প্রসার ঘটেছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিঙ্গেল ডে ধারণাটি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। সিঙ্গেল ডে চালুর পেছনের ইতিহাসও বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। ডেজ অব দ্য ইয়ারের তথ্য অনুযায়ী, এই উদযাপনের মূল ভিত্তিটি গড়ে উঠেছিল একটি চীনা ছুটির দিন এবং নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাত ধরে।

নব্বইয়ের দশকে মূলত একা থাকা তরুণদের কথা ভেবেই প্রথম সিঙ্গেল ডে উদযাপনের সূচনা হয়েছিল। ইংরেজি ক্যালেন্ডারের ১১ নভেম্বর বা ১১/১১ তারিখে চারটি এক রয়েছে। এই চারটি সংখ্যাকে চারজন একক বা একা ব্যক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষার্থী। সেখান থেকেই দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হতে শুরু করে।

পরবর্তীতে এই ভাবনাটি চীনের অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে দেশটির মূলধারার নাগরিক সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে রূপ নেয়। এই বিশেষ দিনে চীনের বিপুলসংখ্যক মানুষ আত্মীয়স্বজনদের সাথে দেখা করেন, কেনাকাটা করতে যান এবং বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান। সময়ের ব্যবধানে এই দিনটি এখন চীনের অন্যতম প্রধান ও বৃহৎ বাণিজ্যিক কেনাকাটার দিনে পরিণত হয়েছে।