শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
নতুন স্বপ্নের সন্ধান

জীবনের যেকোনো বয়সে স্বপ্ন দেখা কেন জরুরি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম

জীবনের যেকোনো বয়সে স্বপ্ন দেখা কেন জরুরি

ছোটবেলায় ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা স্বপ্নের কথা সহজেই বলা গেলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ইচ্ছার জায়গা দখল করে নেয় বাস্তবতার হিসাব। বিয়ে, চাকরি, পরিবার ও সংসারের চাপে অনেকেই নিজের জন্য আলাদা সময় বের করতে পারেন না। ফলে একসময় নিজের ভালো লাগা বা নতুন কিছু শুরু করার আগ্রহ হারিয়ে যায়। অথচ মনোবিজ্ঞান ও জীবনধারা বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বপ্ন দেখার কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা থাকে না।

জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের পরিচয়কে সীমাবদ্ধ করে ফেলে। কারও পরিচয় নির্দিষ্ট হয়ে যায় মা, বাবা, স্ত্রী বা স্বামীর ভূমিকায়, আবার কারও পরিচয় আটকে থাকে শুধুই কর্মক্ষেত্রে। অন্যের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে যে বইটি পড়ার কথা ছিল, যে কাজটি শেখার ইচ্ছা ছিল কিংবা যেখানে ভ্রমণের আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা মনের এক কোণে চাপা পড়ে যায়।

স্বপ্ন মানেই সবসময় বড় চাকরি, বিলাসবহুল বাড়ি, দামি গাড়ি বা বিদেশভ্রমণ হতে হবে এমন নয়। কারও ক্ষেত্রে স্বপ্ন হতে পারে একটি পছন্দের বই প্রকাশ করা, ছবি আঁকা শেখা, গান গাওয়া কিংবা ছোট পরিসরে নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়া। এমনকি সপ্তাহের নির্দিষ্ট কিছু সময় একান্ত নিজের পছন্দের কাজে ব্যয় করাও একটি অর্থপূর্ণ স্বপ্ন হতে পারে। স্বপ্নের সার্থকতা তার আকারে নয়, বরং তা মানুষের মানসিক প্রশান্তি ও আনন্দে কতটা ভূমিকা রাখছে তার ওপর নির্ভর করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আত্মবিশ্বাস, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতা বৃদ্ধি পায়। তাই চল্লিশ, পঞ্চাশ কিংবা ষাট বছর বয়সে নতুন কিছু শুরু করাকে দেরি হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। অভিজ্ঞতার এই ভিত্তি নতুন যেকোনো উদ্যোগকে আরও পরিণত ও অর্থবহ করে তোলে।

অন্যের সফলতার সময়ের সঙ্গে নিজের জীবনের তুলনা টানা স্বপ্নপূরণের অন্যতম বড় বাধা। কেউ পঁচিশ বছর বয়সে সফল হলেও অন্যের সুযোগ তৈরি হতে সময় লাগতেই পারে। পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা আর্থিক বাস্তবতার কারণে অতীতে সুযোগ না মিললেও জীবনের যেকোনো পর্যায়ে নিজের জন্য প্রতিদিন অন্তত পনেরো মিনিট সময় বের করে পছন্দের কাজ শুরু করা উচিত।