মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
বিশ্ব রোজ দিবস

বিশ্ব রোজ দিবস: ক্যানসার যোদ্ধাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ১১:১৪ এএম

বিশ্ব রোজ দিবস: ক্যানসার যোদ্ধাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার

ক্যানসারের মতো জটিল ব্যাধির সঙ্গে লড়াই করা মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সাহসের বার্তা পৌঁছে দিতে প্রতি বছর পালিত হয় বিশ্ব রোজ দিবস।

প্রতি বছর ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে এই বিশেষ দিবসটি পালন করা হয়। ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সামাজিক সংহতি জানানো, তাদের মানসিক মনোবল বৃদ্ধি এবং দীর্ঘ চিকিৎসার দিনগুলোতে একাকিত্ব দূর করতে সামাজিক সমর্থন নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

এই দিবসের পেছনে রয়েছে কানাডার এক কিশোরীর আত্মত্যাগের স্মৃতি। কানাডার কুইবেক অঞ্চলের মেলিন্ডা রোজ নামের এক কিশোরী রক্ত ক্যানসারের বিরল রূপ আসকিন্স টিউমারে আক্রান্ত হয়েছিল। চিকিৎসকেরা তার জীবনাবসানের আশঙ্কা করলেও সে প্রবল মানসিক শক্তি নিয়ে বেঁচে ছিল ছয় মাস।

নিজের মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও মেলিন্ডা হাসপাতালে থাকা অন্য ক্যানসার রোগীদের সাহস জোগাতে চিঠি লিখত, কবিতা পাঠাত এবং উপহার তুলে দিত। তার এই অসাধারণ মানবিক উদ্যোগ থেকেই পরবর্তীকালে বিশ্বব্যাপী রোজ দিবসের সূচনা ঘটে। ক্যানসারের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা কেবল শারীরিক যন্ত্রণাই বাড়ায় না, বরং শারীরিক পরীক্ষা, ওষুধের তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা রোগীকে মানসিকভাবে নিঃসঙ্গ করে তোলে। এমন প্রতিকূল সময়ে পরিবার, স্বজন ও বন্ধুদের নীরব উপস্থিতি রোগীর ভেতরে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে। একটি লাল গোলাপ, একটি সহমর্মিতার চিঠি বা পাশে বসে শান্তভাবে কিছু সময় কাটানো রোগীর মনে গভীর আশার সঞ্চার করে। এই দিবসের উদ্দেশ্য কোনো চিকিৎসাসেবার বিকল্প তৈরি করা নয়, বরং জটিল রোগের সঙ্গে লড়তে থাকা মানুষকে মনে করিয়ে দেওয়া যে তারা একা নন। চিকিৎসা চলার দিনগুলোতে রোগীকে অবাস্তব ইতিবাচক থাকার উপদেশ দেওয়ার চেয়ে তার মনের ভয়, বিষণ্নতা বা উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা অনেক বেশি অর্থবহ।

অযাচিত কোনো চিকিৎসা পরামর্শ চাপিয়ে না দিয়ে রোগীর অনুভূতিকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া এবং ক্ষেত্রবিশেষে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন। একটি ফুল হয়তো জটিল রোগ সারিয়ে তুলতে পারে না, কিন্তু প্রিয়জনের একটি গোলাপ রোগীকে আশার আলো দেখাতে পারে।