রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

dji pocket 3P ক্যামেরা ও insta360 luna আসল পার্থক্য

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

জুন ১৭, ২০২৬, ১০:২২ এএম

dji pocket 3P ক্যামেরা ও insta360 luna আসল পার্থক্য

চীনের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করা হয়েছে নতুন প্রযুক্তির ডিজিআই অজমো পকেট ফোর পি ক্যামেরা। বিশ্বজুড়ে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও পেশাদার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের চাহিদা মেটাতে এই নতুন ফ্ল্যাগশিপ ক্যামেরায় একাধিক ফোকাল লেন্থ এবং ১৭ স্টপ ডায়নামিক রেঞ্জ যুক্ত করা হয়েছে। সাধারণত অত্যন্ত ব্যয়বহুল অ্যার্রি ৩৫ মডেলের মতো সিনেমা ক্যামেরায় এই ধরনের শক্তিশালী ডায়নামিক রেঞ্জ দেখা গেলেও এবার তা হাতের মুঠোয় আনা সম্ভব হলো। 

ডিভাইসটির গ্লোবাল লঞ্চ আগামী ৩০ জুনের আশেপাশে হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।নতুন এই পকেট ফোর পি充 ক্যামেরা সাদা ও কালো এই দুটি আকর্ষণীয় রঙে বাজারে পাওয়া যাবে।ডিভাইসটির স্ট্যান্ডার্ড সংস্করণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৭৯৯ চাইনিজ ইউয়ান। এই মূল্যে মূল ক্যামেরা ডিভাইসের পাশাপাশি ফিল লাইট, রিস্ট ব্যান্ড, কোয়ার্টার ইঞ্চ থ্রেডেড হ্যান্ডেল, পাউচ এবং একটি টাইপ-সি কেবল দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ৪ হাজার ২৯৯ চাইনিজ ইউয়ান মূল্যের ব্লগ কিট সংস্করণের সাথে বাড়তি এক্সেসরিজ হিসেবে থাকছে ডিজিআই মাইক মিনি টু, মিনি ট্রাইপড, প্রো স্টোরেজ প্যাক এবং ফ্রেম ট্যাব ভিউফাইন্ডার রিমোট কন্ট্রোল। 

মূলত ইনস্টা ৩৬০ কোম্পানির সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত লুনা আল্ট্রা ডিভাইসটিকে সরাসরি টেক্কা দিতেই এই প্রিমিয়াম ক্যামেরা বাজারে আনা হয়েছে। পূর্বের সাধারণ সংস্করণের তুলনায় এই নতুন প্রো মডেলের লেন্সে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।আগের সাধারণ পকেট ফোর ক্যামেরায় একটি মাত্র লেন্স থাকায় দূরবর্তী কোনো দৃশ্য ধারণের জন্য ডিজিটাল জুমের ওপর নির্ভর করতে হতো, যার গুণগত মান সন্তোষজনক ছিল না। সেই সীমাবদ্ধতা দূর করতে এবার মূল ২০ মিলিমিটার ওয়াইড লেন্সের পাশাপাশি একটি ৬০ মিলিমিটার ফোকাল লেন্থের শক্তিশালী টেলিফটো লেন্স যুক্ত করা হয়েছে। 

মূল ক্যামেরায় ১ ইঞ্চির সিমস সেন্সর ও এফ ২ দশমিক ০ অ্যাপারচার রয়েছে, যা চমৎকার সিনেমাটিক শট নিতে সক্ষম। এর পাশাপাশি নতুন উন্নত ডি-লগ টু প্রযুক্তির সাহায্যে পেশাদার রঙের কাজ ও নিখুঁত ভিডিও ধারণ করা অনেক সহজ হবে।দিত্বীয় লেন্সটিতে ব্যবহার করা হয়েছে এফ ১ দশমিক ৮ অ্যাপারচার, যা অল্প আলোতেও ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার বা শ্যালো ডেপথ অব ফিল্ড তৈরি করতে দারুণ সাহায্য করে। ফোর-কে রেজুলিউশনে ২৪০ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ড পর্যন্ত স্লো মোশন ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা ওয়াইড লেন্সে বহাল রাখা হয়েছে, যা আগের সংস্করণেও ছিল। 

চমকপ্রদ তথ্য হলো, নতুন টেলিফটো লেন্সের সাহায্যেও ফোর-কে রেজুলিউশনে ২০০ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ডে স্লো মোশন ভিডিও রেকর্ড করা যাবে এবং লেন্স দুটির যৌথ ক্ষমতার কারণে প্রোডাক্ট রিভিউ বা পোরট্রেট শট নেওয়া অনেক সুবিধাজনক হবে। প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি ইনস্টা ৩৬০ লুনা আল্ট্রা ক্যামেরায় অবশ্য এইট-কে রেকর্ডিং, লাইকা কালার প্রোফাইল, ডলবি ভিশন এবং ৩ এক্স অপটিক্যাল জুমের সাথে ডিজিটাল জুমের সমন্বয়ে মোট ১২ গুণ পর্যন্ত জুমের সুবিধা দিচ্ছে।

কাগজে-কলমে লুনা আল্ট্রা অত্যন্ত শক্তিশালী মনে হলেও এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর আলাদা করা যায় এমন ডিটাচেবল স্ক্রিন, যা দূর থেকে ওয়ারলেস মনিটর ও মাইক্রোফোন হিসেবে কাজ করে। ডিজিআই তাদের ব্লগ কিটের বিশেষ ফ্রেম ট্যাব ভিউফাইন্ডার রিমোট কন্ট্রোলারের মাধ্যমে এই প্রযুক্তির জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছে, যা তাদের অজমো মোবাইল এইট পি ডিভাইসের রিমোটের মতো কাজ করে। 

এর সাহায্যে সলো ক্রিয়েটর, ইউটিউবার কিংবা ব্লগাররা দূর থেকেই ফ্রেমিং নিয়ন্ত্রণ এবং রেকর্ডিং চালু করতে পারবেন। তবে ইনস্টা ৩৬০ লুনার প্রথম জেনারেশন ক্যামেরা হওয়ায় এতে বিভিন্ন গ্লিচ বা বাগ, অটোফোকাস সমস্যা ও ওভারহিটিং ট্র্যাকিংয়ের মতো ত্রুটি থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সাধারণ ভিডিও ধারণের জন্য আগের পকেট ফোর মডেলটি এখনো যথেষ্ট সাশ্রয়ী ও কার্যকর হলেও সিনেমাটিক কাজের জন্য নতুন পকেট ফোর পি ক্যামেরা একটি অনন্য সংযোজন।