শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পরমাণু কর্মসূচিতে কোনো ছাড় নয় কঠোর বার্তা ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ১১:২১ এএম

পরমাণু কর্মসূচিতে কোনো ছাড় নয় কঠোর বার্তা ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের প্রস্তাব মেনে নিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে একমত হয়, তবুও নিজেদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো ছাড় দেবে না তেহরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কঠোর অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ওয়াশিংটন তাদের দেওয়া প্রতিটি শর্ত পরিপূর্ণভাবে মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের প্রধান এই জলপথ পুরোপুরি বন্ধই থাকবে। তেহরানের এই অনড় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্য সংকট আরও জটিল রূপ নিচ্ছে।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কৌশলগত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিনিময়ে সুনির্দিষ্ট কিছু শর্তের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাত দিনের মধ্যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে। একই সাথে ওয়াশিংটনকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় দিতে হবে এবং দেশটির ওপর বহাল থাকা জ্বালানি তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এই রূপরেখা সামনে আনে তেহরান।

সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি এখন মূল দর-কষাকষির হাতিয়ার। ইরান চায় তাদের বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে রক্ষা করতে সমস্ত মার্কিন বিধিনিষেধের অবসান। বিপরীতে ওয়াশিংটন চায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহের এই প্রধান সামুদ্রিক পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অবাধ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা করছে তার দেশ।

তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সব শর্ত মেনে নেওয়ার পরই পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক সংলাপে বসবে ইরান। তবে পরমাণু কর্মসূচির মূল কাঠামোতে কোনো আপস করা হবে না বলে ওই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অভ্যন্তরীণ অধিকার নিশ্চিত রাখা কিংবা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম দেশের সীমানার বাইরে পাঠানোর মতো মার্কিন দাবিগুলোতে তেহরান কোনো অবস্থাতেই সম্মত হবে না। ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে বেসামরিক কর্মসূচির আড়ালে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে ঝুঁকছে তেহরান। বিশেষ করে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ রয়েছে, যা বেসামরিক ব্যবহারের প্রয়োজনীয় সীমার চেয়ে অনেক বেশি এবং অস্ত্র তৈরির জন্য দরকারি ৯০ শতাংশের অতি কাছাকাছি।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের স্থাপনাগুলোতে যৌথ সামরিক হামলা চালানোর সময় দেশটির হাতে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। ওই মজুতের কতটা বর্তমানে অক্ষত রয়েছে তা এখনো সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতির অগ্রগতির সাপেক্ষে দেশটি সর্বোচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কিছুটা কমিয়ে আনার বিষয়ে নমনীয় হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা।